বিশ্বমঞ্চে আরেকবার ইরাকি সিংহের গর্জন!

বিশ্বমঞ্চে আরেকবার ইরাকি সিংহের গর্জন!

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ চার দশকের খরা, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার দেয়াল ভেদ করে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন করেছে ইরাক। দীর্ঘতম বাছাইপর্বের ২১টি ম্যাচের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ‘লায়নস অফ মেসোপটেমিয়া’। আগামী ১৬ই জুন বোস্টনে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাদের এই স্বপ্নযাত্রা। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ইরাকি মিডফিল্ডার আমির আল আম্মারি ফিফার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তাদের অদম্য লড়াইয়ের গল্প।
২৮ মাসের দীর্ঘ লড়াই শেষে ইরাকের ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞে পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ফিলিস্তিনের কাছে অপ্রত্যাশিত হারসহ নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের। তবে পোলিশ ক্লাব ক্রাকোভিয়ার ২৮ বছর বয়সী এই তারকা মিডফিল্ডার আল আম্মারি মনে করেন, এই কণ্টকাকীর্ণ পথই তাদের অদম্য করে তুলেছে করেছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ বাছাইপর্বে আমাদের অনেক ওঠানামা দেখতে হয়েছে। ফিলিস্তিনের কাছে হারটা আমাদের মানসিকভাবে ধাক্কা দিয়েছিল।’ ঘরের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল আম্মারি আরও বলেন, ‘তবে ইরাকের সাধারণ মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। আমরা সবসময়ই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে নিই, আর এবারও আমরা ঠিক সেটাই করেছি। প্রতিটি ম্যাচ আমাদের আরও শক্তিশালী, আরও একতাবদ্ধ করেছে। আমরা এখন কেবল একটি দল নই, আমরা যেন এক মায়ের সন্তান-একটি পরিবার।’

গ্রুপ ‘আই’-তে ইরাকের প্রতিপক্ষ ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স, সেনেগাল ও আর্লিং ব্রুট হালান্দের নরওয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের মুখোমুখি হতে মোটেও বুক কাঁপছে না আম্মারিদের। বরং এশিয়ান কাপে জাপানকে হারানোর স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যখন আপনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে খেলবেন, আপনার খেলার মান এমনিতেই উঁচুতে উঠে যাবে। আমরা এশিয়ান কাপে জাপানের বিশ্বমানের তারকাদের বিরুদ্ধে তা প্রমাণ করেছি। দিনশেষে ওরাও মানুষ, আর মাঠের লড়াইটা ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের। মাঠে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবো, তবে একসঙ্গে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করবো।’

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, ইরাকের জন্য এটি বিশ্ব দরবারে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার হাতিয়ার। আল আম্মারি মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় এক বার্তার কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বকে আমাদের মানসিকতা দেখাতে চাই। শুধু মাঠের ফুটবল নয়, মাঠের বাইরে বিগত বছরগুলোতে ইরাক যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, তা থেকে আমরা কীভাবে বারবার বেঁচে ফিরেছি-সেই গল্পটিই আমরা ফুটবল দিয়ে বিশ্বকে বলবো। প্রতিটি ইরাকি খেলোয়াড়ের বুকে কতটা সাহস আর শক্তি লুকিয়ে আছে, তা এবার বিশ্বমঞ্চ দেখবে।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন