বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন, পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন বিল গেটস

এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কোরি

বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন, পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন বিল গেটস

ফন্ট সাইজ:

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস জানিয়েছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। এপস্টেইন তার দাতব্য তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি নিজেই একপর্যায়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র মুখোমুখি হয়ে এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে এসব কথা বলেন বিল গেটস। এপস্টেইনকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবেই স্বেচ্ছায় কমিটিতে হাজির হয়ে নিজের জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে বিল গেটস তার বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন ও পরকীয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল বা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তবে শুনানিতে অংশ নেয়া কমিটির সদস্যরা মন্তব্য করেছেন, এপস্টেইন মূলত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব জাহির করতে পছন্দ করত। বিল গেটসও ছিলেন তার সেই ‘বন্ধু সংগ্রহের’ তালিকার একজন।

‘প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত’: নিজের প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিল গেটস স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখেননি এবং এমন কোনো আভাসও পাননি। গেটস বলেন, আমি কখনোই তার ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি কিংবা ফ্লোরিডার বাসভবনে যাইনি। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। সে হয়তো আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিল, কিন্তু আমার তাতে কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি আরও যোগ করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত। তার সঙ্গে দেখা করাটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তবে মার্কিন আইন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে বিল গেটসের নাম হাজারো বার এসেছে এবং বেশ কিছু ছবিতেও তাকে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা গেছে। এমনকি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করার কথাও স্বীকার করেছেন গেটস।

পরকীয়া ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা: তদন্ত নথিতে উঠে আসা এপস্টেইনের কিছু খসড়া ইমেইলে বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, এপস্টেইন গেটসের জন্য রুশ নারীদের মাধ্যমে বিশেষ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিল এবং গেটস একপর্যায়ে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে তাকে ওষুধ জোগাড় করে দিয়েছিল। গেটস এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। গেটস বলেন, এপস্টেইন আমার সেই পরকীয়ার তথ্য এবং এর সঙ্গে আরও কিছু মিথ্যা যোগ করে আমাকে তার ফাঁদে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় যেভাবে: কমিটিকে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভের জন্য ফান্ড বা তহবিল সংগ্রহের আলোচনার সূত্র ধরে এপস্টেইনের সঙ্গে তার চেনা-জানা শুরু হয়। এর তিন বছর আগেই অবশ্য ফ্লোরিডায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিল এপস্টেইন। গেটস জানান, তিনি শুরুতেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে তার ফাউন্ডেশনে এপস্টেইনের কোনো ভূমিকা থাকবে না। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এপস্টেইন সম্ভাব্য দাতাদের একটি দলের সঙ্গে গেটসের বৈঠক করিয়ে দিলেও সেখান থেকে কোনো অর্থ আসেনি। গেটস বলেন, যখন বুঝলাম সে শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন আমি তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিই।

কমিটির ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিল গেটস জানতেন যে এপস্টেইন একটি ভয়াবহ অপরাধে দণ্ডিত, তা সত্ত্বেও তিনি নিজের ফাউন্ডেশনের জন্য টাকা তুলতে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সদস্য টিম বারচেট মন্তব্য করেন, বিল গেটসকে শুনানির সময় বেশ বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। শত কোটি ডলারের মালিক হওয়ার পরও তাকে দেখে বেশ ‘নুয়ে পড়া’ মনে হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হয়েও বিল গেটস কীভাবে এপস্টেইনের মতো একজন বিতর্কিত মানুষের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের ইতিহাস সম্পর্কে এতটা উদাসীন ও কৌতুহলহীন ছিলেন? যা কি না আগে থেকেই সবার জানা ছিল।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন