ফের রণ হুঙ্কার

ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলা

ফের রণ হুঙ্কার

ফন্ট সাইজ:

টানা প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ই এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর হরমুজ প্রণালি ঘিরে দেশ দুইটির মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো রোববার (৭ই জুন) ইসরাইল ও ইরান সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে।

লেবাননে তেল আবিবের অবিরাম হামলার জেরে রোববার রাত থেকে ইসরাইল জুড়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভিযোগ করেছে, ইরানি বাহিনী ইসরাইলে ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

এ ছাড়া সোমবার সকালে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুতি গোষ্ঠী ইসরাইলে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইসরাইল দাবি করেছে, ইরান ও হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র খোলা মাঠে পড়েছে বলে দাবি আইডিএফের।
এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি সাহায্য করেছে বলে জানায় আইডিএফ। সেইসঙ্গে হামলায় ইসরাইলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে এসব হামলার জবাব না দেয়ার জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি ইসরাইল পাল্টা জবাব দেয় তাহলে এই যুদ্ধ নতুন করে শুরু হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
কিন্তু ট্রাম্পের কথা কোনোভাবেই রাখেননি নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরাইলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ, ইস্ফাহানে বোমা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে তেহরান ও ইস্ফাহানে দু’টি করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সোমবার ভোর পৌনে চারটা থেকে হামলা শুরু করে ইসরাইল। দেশটি দাবি করেছে, তারা রাতভর ইরানের ৯টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলার দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানের সঙ্গে আরও কয়েকদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ইরানের সঙ্গে সর্বশেষ এই সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামিন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপারের সঙ্গে তিনবার কথা বলেছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই সংঘাতের ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সর্বশেষ সোমবার তার নিজ মালিকাধীন ট্রুথ সোশ্যালে অবিলম্বে তেহরান ও তেল আবিবকে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার পোস্টে দাবিও করেছেন যে, ইরান ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে চায়।
ট্রাম্পের এই পোস্ট দেয়ার কিছুক্ষণ পরে ইরান ইসরাইলে তাদের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয়। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে বলে, ইসরাইলে সশস্ত্রবাহিনীর অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা করা হলো। তবে একই বিবৃতিতে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে ইরান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননসহ তেহরানে ইসরাইল যদি ফের হামলা চালায় তাহলে তেহরান আগের চেয়ে আরও কঠোর ও জোরালো জবাব দেবে।
এদিকে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’র আন্তর্জাতিক বিভাগের সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই টালমাটাল পরিস্থিতি সহসাই স্বাভাবিক হচ্ছে না। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসরাইলের এই আগ্রাসনের দায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আঞ্চলিক এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও বর্তাবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সংঘাতের ফলে ইরান, সিরিয়া এবং ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার-২৪ জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকেই ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার আকাশ ফাঁকা ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। দেশটির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ইরানে তাদের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। দেশটি যেকোনো প্রকারে ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পতন চায়।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ফের যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন