লোকসভাও হাতছাড়া মমতার

লোকসভাও হাতছাড়া মমতার

ফন্ট সাইজ:

সোমবার দিনভর চলেছে নাটক। আর এই নাটকের স্টেজ সাজানো হয়েছিল নয়াদিল্লিতে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখরক্ষার তাগিদে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করছিলেন তখন লোকসভায় তৃণমূল
কংগ্রেসের একটি বড় অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। ফলে মমতার সাধের সংসার ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। তার চারদিকে এখন ঘোর অন্ধকার।

বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা সোমবার একাধিকবার নিজেদের মধ্যে গোপন স্থানে বৈঠক করেছেন। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপেও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতার হাত ছাড়ার। সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল রোববার রাত থেকেই। সোমবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করার পরই বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দ অধিকারীও। এই বৈঠকেই অন্য সমীকরণের নকশা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে।

সূত্রের খবর, বৈঠকে কাকলি, শতাব্দীর পাশাপাশি ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকারেরা। বিদ্রোহীদের তালিকায় ইউসূফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সূত্রের খবর, জোড়াফুলের বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “আমাকে নিয়ে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জনতার রায় মেনে নিয়েছি। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এনডিএ’র সঙ্গেই আমাদের চলা উচিত।”
জানা গেছে, তৃণমূলের সংসদীয় দলের চিফ হুইপ হিসেবেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। সংসদীয় দলের চিফ হুইপ এখনো তিনিই দাবি করে দলের অন্য সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাকলি। স্পিকারকে দেয়া চিঠিতে মোট ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর আছে। ওই চিঠিতে দাবি জানানো হয়েছে যে, তারা নতুন কোনো দল গড়ছেন না বা ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে দাবি করছেন না। কিন্তু স্বতন্ত্র ব্লক হিসেবে বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সাংসদদের সঙ্গে তারা লোকসভায় বসতে চান বলে স্পিকারের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ওই বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করেননি বা আলাদা কোনো দল গঠনের ঘোষণা করেননি বা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাননি, বরং বাইরে থেকে একটি ‘ব্লক’ গঠন করতে চান বলে সূত্রের খবর। যদিও সেই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।

২০ জন বিদ্রোহী হয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। এরা হলেনÑ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজেদা আহমেদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মালা রায়। এদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাদের শিবিরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কীর্তি আজাদ এবং শত্রুঘ্ন সিনহার ভূমিকা নিয়ে রয়েছে জল্পনা।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের এক মাস পেরোনোর আগেই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৯ জন বিধায়কই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল, একই নকশায় ভাঙতে চলেছে সংসদীয় দলও।
তবে রাজ্যসভায় ভাঙনের কি পরিস্থিতি তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাজ্যসভার ৯ জন সাংসদের মধ্যে সোমবার সকালে পদত্যাগ করেছেন সুখেন্দু শেখর রায়। সাংসদ পদ ছাড়ার পাশাপাশি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, কোয়েল মল্লিকও পদত্যাগ করতে পারেন।

হাইকোর্টে শোভনদেব: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত তৃণমূল পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক বৈধতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১১ই জুন এই মামলার শুনানি হবে। এই সময়ের মধ্যে অন্য পক্ষকে নোটিশ জারি করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন