টেনিস কোর্টে চার বছর আগের সেই রক্তক্ষরণ, ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া আর হুইলচেয়ারে করে রোলা গারোর ফিলিপ শাতিলিয়ে কোর্ট ছাড়ার সেই দুঃসহ স্মৃতি আজ অতীত। সমস্ত ট্র্যাজেডি আর ফাইনালে হারের বৃত্ত ভেঙে অবশেষে ফরাসি ওপেনের লাল মাটিতে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের স্বপ্নপূরণ করলেন আলেক্সান্ডার জভেরেভ। রোববারের ফাইনালে ইতালির তরুণ ফ্লাভিও কোবল্লিকে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫-৭), ৬-১ গেমে হারিয়ে জার্মানির ৩০ বছরের খরা কাটালেন এই ২৯ বছর বয়সী তারকা।
কার্লোস আলকারাজের চোট এবং সিনার-জকোভিচের বিদায়ের পর টুর্নামেন্টের ফেবারিট ছিলেন জভেরেভই। চার ঘণ্টারও বেশি সময়ের লড়াই শেষে যখন তিনি জয়ের দেখা পেলেন, তখন আর আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।
ট্রফি উঁচিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে জভেরেভ বলেন, ‘এই কোর্টটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ। জীবনের সেরা এবং কঠিনতম মুহূর্ত-দুটোই আমি এই কোর্টে দেখেছি। চার বছর আগে সাতটি লিগামেন্ট ছেঁড়া আর দুটি ভাঙা হাড় নিয়ে আমি এই কোণায় পড়েছিলাম। তবে আজ, অবশেষে একটি হ্যাপি এন্ডিং হলো।’
ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধে ২৪ বছর বয়সী কোবল্লি লড়াকু মানসিকতা দেখালেও, শেষ সেটে জভেরেভের অভিজ্ঞতার কাছে হার মানেন। রানার্স-আপ ট্রফি হাতে নিয়ে কোবল্লি রসিকতার সুরে বিজয়ী জভেরেভকে বলেন, ‘আমি তোমার জন্য খুশি, তবে নিজের জন্য ভীষণ দুঃখিত। কারণ আমি ট্রফির খুব কাছে ছিলাম। এবার তো তোমার স্বপ্নপূরণ হলো, পরের বার দয়া করে আমাকে জিততে দিও!’
জভেরেভের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়েছে গোটা টেনিস বিশ্ব। চোটে পড়া গতবারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, ‘অভিনন্দন সাশা! তুমি এটির যোগ্য দাবিদার।’ অন্যদিকে
২০২২ সালের জভেরেভের সেই চোটের ম্যাচের প্রতিপক্ষ রাফায়েল নাদাল লেখেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তুমি প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের পেছনে ছুটেছো। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তোমার প্রাপ্য।’
