ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) এর মাত্রা ছিল ৮.২ এবং এটি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীরে আঘাত হেনেছে বলে জানালেও পরবর্তীতে তারা সংশোধন করে এর মাত্রা ৭.৮ বলে জানায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৭.৮। এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় দফায় দফায় আফটারশক বা অনুকম্পন হতে থাকে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভলকস)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিন্দানাওয়ের জেনারেল সান্তোস সিটিতে একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবনটি ধূলিসাৎ হতে দেখা গেছে। এছাড়া অসংখ্য ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে এবং ছাদ ধসে পড়েছে।
এ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে জেনারেল সান্তোস সিটিতে ১ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্যোগের পরপরই ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশের সব জরুরি সংস্থাকে সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিন। ধনসম্পদের চেয়ে আপনার জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে ফিলিপাইনের উপকূলে সর্বোচ্চ ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশে ১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে ফিলিপাইনের সুলতান কুদরাত এবং সারাঙ্গানি প্রদেশে ১ মিটার উচ্চতার ঢেউ লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উত্তর সুলাওয়েসি, গোরোন্তালো এবং সাঙ্গিহে দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থাও (জেএমএ) ওকিনাওয়াসহ দেশটির দক্ষিণ উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর সাবাহ রাজ্যের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়শই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়। এর আগে গত অক্টোবরেও মিন্দানাও অঞ্চলে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হন।
