নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্রেটরা রিপাবলিকানদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে আছে। এই নির্বাচনটি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অর্ধেক সময়ে তার নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত সাম্প্রতিক একাধিক জাতীয় ‘জেনেরিক কংগ্রেশনাল ব্যালট’ জরিপের সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেমোক্রেটরা বেশিরভাগ জরিপে ১ থেকে ৬ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। একটি জরিপে তাদের লিড আরও বেশি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
এ ধরনের জরিপে ভোটারদের জিজ্ঞেস করা হয়, নির্দিষ্ট প্রার্থী না দেখিয়ে তারা কোন দলকে কংগ্রেসে সমর্থন করবে। যুক্তরাষ্ট্র ভোট ফাউন্ডেশন অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচন হয় প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে। ২০২৬ সালে ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনের জন্য ভোট দেবেন। ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে, কংগ্রেসের গঠন এবং কোন দল আইন প্রণয়ন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত সমর্থন বা পরিবর্তন/প্রত্যাখ্যান করতে পারবে- তা প্রশাসনের সাফল্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আইনসভা শাখা এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ হিসেবে কাজ করে। বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের আইন পাস ঠেকাতে পারে, তদন্ত শুরু করতে পারে এবং নীতি বাস্তবায়ন কঠিন করে তুলতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্টের দলের জন্য কঠিন হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ভোট ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ভোটাররা সাধারণত পরিবর্তন চায়। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত আসন হারায়। গত ২২টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ২০টিতেই এই প্রবণতা দেখা গেছে।
বর্তমান জনমত জরিপগুলোও সেই ঐতিহাসিক ধারা অনুসরণ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ঐতিহাসিক মানদণ্ডে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের গড় জরিপ অনুযায়ী তার অনুমোদন হার ৩৮ শতাংশ এবং বিরোধিতা ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে তার অনুমোদন হার ৩৫ শতাংশ এবং বিরোধিতা ৬০ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক আছে। ২০২৬ সালের নির্বাচন এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতির প্রতিক্রিয়া ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট সম্প্রতি রিপোর্ট করেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ, ভোটিং প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার ও ভোটাধিকার সংগঠন ক্যাম্পেইন লিগ্যাল সেন্টার সতর্ক করেছে যে, গণতন্ত্র ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদের আসন ডিস্ট্রিক্ট ভিত্তিকভাবে নির্ধারিত হয়, ফলে নির্বাচনী এলাকার সীমারেখা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। এর কারণে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্রেটদের এগিয়ে থাকা সবসময় কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক ডিস্ট্রিক্ট, যেখানে স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী এবং ভোটার উপস্থিতি বড় ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে এখনো কয়েক মাস সময় আছে। তাই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সংকট, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা এবং ভোটার অংশগ্রহণ ফলাফলকে বড়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। তবে বর্তমান চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি পরিচিত রাজনৈতিক ধারা: একজন অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট, শক্তিশালী বিরোধী দল এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেয়ার সম্ভাবনাময় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
