সিলেটে এমপি মালিক ও রাজু ফের মুখোমুখি

সিলেটে এমপি মালিক ও রাজু ফের মুখোমুখি

ফন্ট সাইজ:

ভোটের মাঠের সেই মুখোমুখি অবস্থানকে ফের ফিরিয়ে আনলেন সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে তার পিতা প্রখ্যাত আলেম আল্লামা নুরউদ্দিন গহরপুরী (র.) ও গহরবাসীর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্যে ক্ষেপেছেন মাওলানা রাজু ও গহরপুরের মানুষ। তারা এমপি এম মালিককে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। তবে বক্তব্য প্রদানের পর থেকে এমএ মালিক বিষয়টি নিয়ে নীরব। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন বর্তমান এমপি ও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমএ মালিক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (মামুনুল হক) অংশের নেতা ও আল্লামা গহরপুরী (র.) ছেলে মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু।

তিনি গহরপুর মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিমও। জামায়াতের কাছ থেকে মনোনয়ন ছিনিয়ে নিয়ে তিনি এ আসনে প্রার্থী হন। মাওলানা রাজু এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। খুব কম সময়ের প্রস্তুতিতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সহজেই এ আসনে জয় পান বিএনপি’র প্রার্থী এমএ মালিক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- গত শুক্রবার বিকালে গহরপুর এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন এমএ মালিক এমপি। সেখানে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি মাওলানা রাজুর বিরুদ্ধে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি মাওলানা রাজুর পিতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা গহরপুরী (র.)কে নিয়েও কথা বলেছেন।

তার এই বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কওমি অঙ্গনের আলেমদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। গত দু’দিন ধরে আলেমদের সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় এই এমপি। ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে এমএ মালিক এমপি বলছেন- ‘আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি ১৯ বছর দেশেই ছিলাম না। আপনারা বিশ্বাস করেছেন। আমি তো সন্দেহ করেছিলাম- এই এলাকায় আমি ফেল করবো। ইলেকশনের আগে আমি যখন আইছি। কারণ এটা ওই যে রিকশাওলা। তিনি ক্যান্ডিডেট। তার পিতা পাকিস্তানের সাপোর্টার ছিলেন। আমি তো মনে করেছি- এটা পাকিস্তানি এলাকা বোধ হয়। এটা প্রমাণ করলেন আপনারা, রিয়েলি আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আপনাদের অবস্থান।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন- ‘এই যারা মানুষদের ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’ করার চেষ্টা করে বেহেশতে পাঠিয়ে দেন এবং আমরা দোজখের কাহিনী বলি। এবং তাকে ভোট দিলে আপনারা বেহেশতে চলে যাবেন সেটি আপনারা বুঝেছেন। এদের যে পরিকল্পনা অত্যন্ত নোংরা। তখন কিন্তু আপনারা প্রতিরোধ করেছেন।

আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন।’ এদিকে তার এই বক্তব্যের ঘটনায় অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানার রাজু ও গহরপুরের এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে তারা আন্দোলনে নামার ঘোষণাও দিয়েছেন। সর্বস্তরের গহরপুরবাসীর ব্যানারে মাদ্রাসায় এক বৈঠকে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন রাজুসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন রাজু বলেছেন- ‘গায়েবি ভোটের সংসদ সদস্য। তিনি কী জন্য সংসদ সদস্য হয়েছেন আমরা বলতে চাই না। সিলেট-৩ আসন শান্তির আসন। আমাদের পূর্ব পুরুষরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন এলাকায় উচ্ছৃঙ্খলা না করা, শান্তি রাখা। এটা আমাদের ঐতিহ্য।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৫৫ বছর। এই ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো সময় হযরত গহরপুরীকে (র.) নিয়ে কোনো নেতা বা কেউ এ ধরনের মন্তব্য করেননি। যেটি আমাদের সংসদ সদস্য করেছেন।’ মাওলানা রাজু বলেন- ‘দেশের মানচিত্রকে অস্বীকার করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এই এলাকাকে আরেকটা দেশের অংশ মনে করা হয়, এটা কতো বড় অপরাধ। বিশেষ করে এই অঞ্চলের মানুষকে উদ্দেশ্য করে তিনি ব্যঙ্গ করেছেন। আর ধর্ম ব্যবসার কথাও বলছেন। আপনারা জানেন নির্বাচনের আগে অন্তত ১০ বার গহরপুরী (র.) কবর জিয়ারত করেছেন এই এমপি। নির্বাচনের আগে বলেছিলেন আল্লাহর ওলি গহরপুরীর দোয়া নিয়েছেন। এক সঙ্গে হজেও ছিলেন।

আর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি এখন বলছেন পাকিস্তানি, রাজাকার। মাওলানা রাজু বলেন- ‘তার এই বক্তব্যে শুধু বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই নয়, যাদের ভেতরে ন্যূনতম আলেম, উলামা ও কোরআন হাদিসের প্রতি মহব্বত আছে তাদের কলিজাতেও আঘাত করেছেন। আমি নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর যত ফোন পেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি ফোন গত একরাত পেয়েছি। প্রবাসী ভাইদের কলিজায় আগুন লাগছে।’ তিনি এমপি এমএ মালিকের সমালোচনা করে বলেন- ‘আমরা শান্তি চাই। কিন্তু এই এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বালাগঞ্জে প্রথম লাশ উপহার দিয়েছেন। আর তিনি এখন চাচ্ছেন ঘরে ঘরে আগুন লাগাতে, ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া করাতে।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন