ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে অবৈধভাবে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারকে রুল (শোকজ) জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত গাইডলাইন ও অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিচালিত এক অভিযানে একটি অবৈধ কসাইখানা থেকে ৩৭টি অসুস্থ ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো অভয়ারণ্য বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আরও অসুস্থ ও অক্ষম ঘোড়া পাওয়া যায়, যেগুলো জবাই করে স্থানীয় বাজারে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ঘোড়ার মাংস হিসেবেও এসব মাংস বিক্রির প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় আবেদনকারীরা আদালতের শরণাপন্ন হন।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট সরকারের কাছে জমা দেয়া আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার বা জব্দ করা অসুস্থ ঘোড়া পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রির যে প্রচলিত প্রক্রিয়া রয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব বলেন, আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়িত হলে অসুস্থ প্রাণীর মাংস বাজারজাতকরণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
