মে মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, চাপে মধ্যবিত্ত

মে মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, চাপে মধ্যবিত্ত

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরের মে মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৯.০৪ শতাংশ। সর্বশেষ মার্চ মাসে ৯ শতাংশের নিচে ছিল সার্বিক মূল্যস্ফীতি। বোরবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মে মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরেক দফা বাড়লো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে। কারণ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার অতিরিক্ত চাপ ব্যবসায়ীরা পণ্যের দামের মাধ্যমে বাজারে সমন্বয় করার চেষ্টা করবেন, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, টানা চার মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছিল। এখন এপ্রিল ও মে পর পর দুই মাস আবার বাড়লো। এক মাস আগে অর্থাৎ এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯.০৪ শতাংশে। তার আগে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.১৩ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে ছিল ৮.৫৮ শতাংশ।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যে চাপ আরও বেড়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। ভোজ্য তেল, শাকসবজি, ডিম ও মুরগির বাজারদর বাড়ায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবার বেশি চাপে পড়েছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে এপ্রিল মাসে ছিল ৯.৫৭ শতাংশ। জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি এই খাতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রাম ও শহর-উভয় এলাকায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক হার দাঁড়িয়েছে ৯.৪৮ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯.০৫ শতাংশ। শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক হার ৯.২৫ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইতিমধ্যে এলপি গ্যাসের অস্থির বাজার, জ্বালানি তেলের একাধিক দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব সরাসরি গ্রাহকদের পাশাপাশি পরোক্ষভাবেও পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে।

গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হলেও গত ১০০ দিনে সুফল মেলেনি। এলপিজি সিলিন্ডারের উচ্চমূল্যের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে শুধু ঘরের লাইট-ফ্যান নয়, বরং নাশতার টেবিল থেকে শুরু করে বাজারের ব্যাগ সবকিছুর খরচ বাড়বে। নির্দিষ্ট আয়ের ও মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ পড়বে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে জামাকাপড়, সাবান সবকিছুর দাম আরেক দফা বাড়বে। স্বল্প আয়ের লোকজন এ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সরকার দেশে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফায় বাড়িয়েছে। তিন দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর পর কিছুটা কমালেও তা তুলনামূলক বেশি। আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ালো। এসব ইউটিলিটির দাম বাড়ার বড় প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। সফিকুজ্জামান আরও বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করলেও কম আয়ের মানুষের ওপর খরচের চাপ তেমন কমেনি। কারণ, দুর্বল বাজার তদারকি ব্যবস্থাপনায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন