তেলাপোকাদের পাশে বিরোধীরা, বিজেপিতে উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে অনলাইনে পথচলা শুরু করলেও অল্পদিনের মধ্যে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে আন্দোলন শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষায় নানা অসংগতি এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এই ক্ষোভকে অবলম্বন করে সিজেপি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন তরুণদের পাশপাশি মধ্যবয়স্ক ও প্রবীণরাও। সব তেলাপোকাকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাদের প্রধান দাবি ছিল, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন, তেলাপোকারা ভয় পায় না। তারা মরেও না। তাই লড়াই চলবে। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি সেই সব ভাই-বোনদের জন্য, যারা এখনো স্কুলে পড়ে। তিনি এ-ও বলেন, আমরা আর কতোদিন ভয়ে থাকবো? এই দেশ কোনো এক দলের নয়। দেশ আমাদের সকলের।

এদিনের বিক্ষোভে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক নিজে হাজির হয়েছিলেন। আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের নেত্রী ঐশী ঘোষ, আইসার নেত্রী নেহা।

সিজেপি’র বিক্ষোভে ব্যাপক মানুষের সমাগম না হলেও সমাজমাধ্যমে এই বিক্ষোভ আলোড়ন তৈরি করেছে। ফলে শনিবার প্রথম রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

তেলাপোকাদের এই আন্দোলন যে বিজেপিকে চিন্তায় ফেলেছে তা বোঝা গিয়েছে বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের কথা থেকে। সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের নাম না নিয়ে নিতিনের দাবি, বিদেশে বসে থাকা কিছু লোক মনে করেন যে, তারা ভারতের যুবসমাজকে চালিত করতে পারেন। তবে এটা ঠিক নয়। বিজেপি’র নেতা কটাক্ষ করে বলেন, ভারতের যুবসমাজ কখনো কারও হাতের পুতুল নয়। তিনি এ-ও মনে করেন, নেপাল, বাংলাদেশে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হয়েছে, তা এমন যুবসমাজের সঙ্গে কখনই যুক্ত হতে পারে না, যারা শৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ গড়ার কথা ভাবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘তেলাপোকা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনো পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকারকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ই মে সিজেপি’র পথচলা শুরু। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসেবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হয় সিজেপি।

ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা এই পার্টিতে নাম নিবন্ধন করেছেন। ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি, শিবসেনাসহ প্রায় সব বিরোধী দল তরুণদের এই বিক্সোভ আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে। বামপন্থিরা সরাসরি আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজা, সিপিআইএমএল নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও মূল্যায়ন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শীনতে বলেছেন, আমরা জেনজির এই আন্দোলনের পাশে রয়েছি।

সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপকে বলেছেন, গত দশ বছরে দেশে শুধু হিন্দু বনাম মুসলিম করা হচ্ছে। এতে কার লাভ হয়েছে? আমার মা আতঙ্কিত যে আন্দোলন করলে আমাকে জেলে যেতে হবে। এই ভয় নিয়ে কতোদিন বাঁচবো? অভিজিতের মতে, সরকারের কাছে আমরা তেলাপোকা বা পরজীবী হতে পারি, কিন্তু আমরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করার ক্ষমতা রাখি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন