‘সরকারের জন্মের ঠিক নেই’- এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিলেট জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি গত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। বক্তব্য প্রদানের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি দুঃখপ্রকাশ করলেও তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমালোচনা শেষ হচ্ছে না। বরং ক্রমেই ডালপালা মেলছে। এদিকে দুঃখপ্রকাশ করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক মাঠের তার এই বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছে সিলেট বিএনপি। আর মাওলানা হাবিবুর রহমানের নিজ এলাকা সিলেট-৬ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেছেন- সরকার যদি বেজন্মা হয় তাহলে তারাও বেজন্মা। বৃহস্পতিবার বিকালে জ্বালানি তেল-গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন- বিষয় হচ্ছে যার জন্মের ঠিক থাকে না তাকে আমরা কী বলি। বলেন কী বলি। যার জন্মের ঠিক থাকে না তাকে বলি আমরা ‘ফুঙা’। কথাটা ঠিক কিনা? সুতরাং এই সরকারের জন্মের ঠিক নাই।
কারণ এই সরকার জনগণের ভোটে পাস করে নাই। এই সরকার পাস করেছে ইঞ্জিনিয়ারিং ভোটে। কথাটা ঠিক কিনা- বলুন। সুতরাং এই সরকারের জন্মের ঠিক নাই। তাই এ সরকার জনগণের সরকার নয়। এ সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং সরকার।’ তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। নেট দুনিয়ায় তার বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বক্তব্য প্রদানের কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন সিলেট জামায়াতের এই আমীর। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- জ্বালানি তেল-গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আমার বক্তব্যে সিলেটি ভাষার একটি শব্দ চয়ন মোটেই ঠিক হয় নাই। আমার শুভাকাঙ্ক্ষীসহ অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন।
এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে জামায়াতের আমীরের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিলেট-৬ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেছেন- ‘সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান যে ভাষায় সরকারকে আক্রমণ করেছেন এটা শুধু ন্যক্কারজনকই নয় তাদের দলের নেতাদের পুরনো মুখোশ খুলে দিয়েছে।
যদিও তিনি এখন দুঃখপ্রকাশ করেছেন কিন্তু এই বক্তব্য থেকে তাদের ভেতরে কি পরিমাণ হিংসা এবং প্রতিহিংসা কাজ করছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকার যদি বেজন্মা হয় তবে তারাও বেজন্মা। ভাবতে অবাক লাগে একটি দলের জেলা আমীর এই ধরনের বক্তব্য কীভাবে দিতে পারে? শুধু তিনি নন ইদানীং তাদের প্রতিটি নেতার মুখের ভাষা শুনলে গা শিউরে ওঠে। একজন তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত কামনা করেছেন এবং তাদের আমীর সারাজীবন বেঁচে থাকার গ্যারান্টি দিয়েছেন। তাই এদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
আমাদের দ্বিধা দ্বন্দ্বের দুর্বলতা খুঁজে সেখান থেকে ফায়দা লুটের চেষ্টায় তারা লিপ্ত। প্রয়োজনে এদেরকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বয়কট করুন....। এদিকে জামায়াত আমীরের বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন সিলেট বিএনপি। তবে দুঃখপ্রকাশকে ‘ইতিবাচক’ বললেন জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। গতকাল এক বিবৃতিতে সিলেটের নেতারা জানিয়েছেন- ‘সিলেটের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রবীণ নেতার কাছ থেকে এমন অসংলগ্ন ও অনভিপ্রেত বক্তব্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। তার ওই অশালীন মন্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলেন- সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বরাবরই সৌজন্য, শালীনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও আদর্শিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যে সবসময় শালীনতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভাষা কোনো কালেই এমন ছিল না। কিন্তু সিলেট-১ আসনের পরাজিত প্রবীণ রাজনীতিবিদের বক্তব্যের ভাষা এতটাই কুরুচিপূর্ণ, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এর মাধ্যমে তিনি সিলেটের চিরচেনা রাজনৈতিক সৌজন্যতাবোধ ও ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছেন।
