চাঁদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হালিমা। ছেলেকে নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম
ইউনিটে ভর্তি আছেন। সিট নম্বর পি-৪। ৮ মাস বয়সী রবিউল খান প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে নিয়ে আসেন। এখানে এসে হামে আক্রান্ত হয়। স্বামী নূরে আলম খান কৃষিকাজ করেন। স্বল্প আয়ের পরিবারটির রাজধানীতে পরিচিত তেমন কেউ নাই। এক মাস আগে ধারদেনা করে বড় ছেলের চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করেছেন। সেই দেনা পরিশোধ না করতেই ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে হালিমা ও নূরে আলম। সঙ্গে হালিমার বড় বোন আছেন।
রবিউলের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা দেনা করেছেন। খেয়ে না খেয়েই হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছেন তারা। হাসপাতালের দেয়া খাবার ৩ জন ভাগ করেও খান। স্বল্প আয়ের এ পরিবারটির জন্য আইসিইউ খরচ বহন করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় রবিউলকে আইসিইউতে না নিলে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। ছেলেকে নিজের কোলে ফিরে পেতে চান হালিমা।
হালিমার সাড়ে ৩ বছর বয়সী বড় ছেলে বর্তমানে চাঁদপুরে নানীর কাছে রয়েছে। মাসখানেক আগে বিষজাতীয় কিছু পান করে সে। তখন ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এ সময়ে ছোট ছেলে রবিউলের ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। কিছুদিন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করে। সুস্থ না হলে গত ১৪ই মে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থা একটু উন্নতি হলে ২১শে মে বাড়ি নিয়ে যান। ফের অসুস্থ হলে পহেলা মে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয়। খরচের চিন্তা থেকে ওই দিন ছেলেকে চাঁদপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করান হালিমা।
পরদিন রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। পরে নেয়া হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে ভর্তি করার পর দেখা দেয় হামের লক্ষণ। পরে তাকে হাম ইউনিটে পাঠানো হয়।
হালিমা মানবজমিনকে বলেন, এক মাস আগে বড় ছেলেকে ধারদেনা করে ঢাকায় চিকিৎসা করাই। সে সুস্থ হতে না হতে ছোট ছেলের ঠান্ডা লাগে। এই ঠান্ডা থেকে নিউমোনিয়া হয়ে যায়। এখন হামে আক্রান্ত। ছেলের শারীরিক অবস্থা খুব বেশি ভালো না। ডাক্তার বলেছেন, আইসিইউতে নিতে হবে। কিন্তু টাকা পাবো কই? এভাবেই চিকিৎসা করাচ্ছি। তিনি বলেন, এখানে আমার সঙ্গে বড় বোন ও স্বামী রয়েছেন। প্রতিদিন কী খাই তার ঠিক নাই।
স্বামী মাঝে মাঝে ভাত আর ডাল কিনে আনেন। সেসব ৩ জনে ভাগ করে খাই। মাঝে মাঝে হাসপাতাল থেকে দেয়া একজনের খাবার ৩ জন ভাগ করে খাই। এ অবস্থায় ছেলেকে আইসিইউতে ভর্তি করাবো কীভাবে? প্রতিদিনের যা ওষুধ লাগে তাই তো ধার করে কিনি। টেস্ট করাতে অনেক টাকা লাগে। মানুষ আর কতো ধার দিবে? জানে তো এসব দ্রুত পরিশোধ করতে পারবো না। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
হালিমা বলেন, ঢাকায় আমাদের নিকটাত্মীয় নাই। স্বামী এই গরমে বাইরে পাটি বিছিয়ে ঘুমায়। তার কাছে ফ্যান কেনার মতো টাকাও নাই। এখন পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। সব টাকা ধার করা। আমার স্বামী মানুষের জমিতে কৃষিকাজ করেন। নিজেদের বলতে শ্বশুরের থাকার ঘরটি রয়েছে। এর বাইরে আর কিছু নেই। দিনে এনে দিনে খাই। এ মুহূর্তে খরচ করার মতো কোনো সম্বল নেই আমাদের।
