বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি’র প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম তারা এবং তার বড় ভাই প্রয়াত রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক স্মরণে আয়োজিত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতিবিদদের নিয়ে অপপ্রচার পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। যা খুশি তা করা হয়। সমাজের কাছে, রাজনীতিবিদদের একটা সবচেয়ে হীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। লক্ষ্য করে দেখবেন, রাজনীতি ধ্বংসের একটা ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতি সুস্থ রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ নয়। যারা অনলাইনে বুলিংয়ের সঙ্গে জড়িত, তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যে ভাষা, যে কনটেক্সট নিয়ে আসেন, এটা রাজনীতির স্বাভাবিক যে ধারা, সেটাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
চার মাস আগে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরলেও তা এখনো বিপদমুক্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চতুর্দিকে পরিকল্পিত ও সচেতনভাবে একটা প্রচেষ্টা রয়েছে সবকিছুকে ভেঙে, অর্থহীন করে এর মাধ্যমে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে জুলাইয়ের পর থেকে এই চক্রান্ত করছে। তারা চায় যাতে দেশে গণতন্ত্র না থাকে। সরকারের দায়িত্ব হবে, এসব চক্রান্তকে চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সেই চক্রান্তকে রুখে দেয়া।
গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এমন একটি শক্তির উত্থান এখন দেশে হচ্ছে বলে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, এই শক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক হওয়া উচিত।
বিএনপি’র রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি’র কাছে কেউ বিপ্লব আশা করলে তা ভুল হবে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু’র সভাপতিত্বে এবং মাহবুবুল হকের মেয়ে অধ্যাপক জাফরুন নাহারের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এম মাসরুর রিয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া সভায় মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
