মৃত ষাঁড় গরু নিয়ে রহস্য, জলাতঙ্ক শঙ্কায় উদ্বিগ্ন খামারি

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের দিগর গ্রামের গবাদিপশু খামারি রেনু মিয়া ৫৫ হাজার টাকায় কেনা একটি ষাঁড় গরুর শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয়েছে। দুইদিন ধরে পাগলপ্রায় হয়ে গরুটির মৃত্যু হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে ভুগছেন খামারি ও তার পরিবারের সদস্যরা। গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল, এমন সন্দেহে তাদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় খামারের অন্য গরু এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

খামারি রেনু মিয়া জানান, গত ৩০শে মে সাহিতপুর বাজার থেকে তিনি ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাঁড় গরু কিনে আনেন। তবে আনার পর থেকেই গরুটির আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। ঘাস ও পানি কম খেতো এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতো। বিষয়টি তিনি গরুর মালিক প্রতিবেশী কেরাদিঘী গ্রামের আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজনকে জানান। শুক্রবার সকালে গরুটি হঠাৎ ছটফট করতে করতে মারা যায়। এরপরই খামারির ধারণা হয়, গরুটি সম্ভবত জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল এবং বিষয়টি গোপন রেখে তাকে বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তার খামারে আরও আটটি গরু রয়েছে। মৃত গরুটির উচ্ছিষ্ট খাবার ওই গরুগুলো খেয়েছে এবং খামারের দুধও পরিবারের সদস্যরা পান করেছেন। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেন্দুয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, মৃত গরু দেখে জলাতঙ্ক নিশ্চিত করা যায় না। পরীক্ষাগারের পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি বলা সম্ভব নয়।

যেহেতু একই খামারে আরও গরু রয়েছে, তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব গরু এবং মৃত গরুর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন