সংস্কারের পর দ্রুত খুলে দেয়া হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর: মন্ত্রী

সংস্কারের পর দ্রুত খুলে দেয়া হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর: মন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের সার্কিট হাউজ-সংলগ্ন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। শুক্রবার জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রাজনৈতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে ভবনটিকে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আধুনিকায়নের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। জাদুঘরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, স্মৃতিচিহ্ন এবং মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, সংস্কারকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জাদুঘরের কয়েকটি কক্ষ আপাতত খালি রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে এটি আবারো দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে। আহমেদ আযম খান বলেন, মেজর জিয়া থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সংস্কারের পর তার ব্যবহৃত সামগ্রী ও স্মারকগুলো আরও সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, বীরউত্তম খেতাব অর্জন, সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন- সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদানও সংরক্ষণ ও তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হবে। জাদুঘর ভবনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শতবর্ষী এই স্থাপনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের অংশ।

তাই ভবনটির মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এটিকে আরও টেকসই ও নিরাপদ করা হবে। সামপ্রতিক ভূমিকম্পে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসংলগ্ন জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পূর্বের নাম ‘জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স’ পুনর্বহালের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জাদুঘর ও জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে এসব স্থাপনার সংরক্ষণ জরুরি। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করে জাদুঘরটি আবারো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন