ভেজাল দুধের কারবারিদের মারধরে আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ভেজাল দুধের কারবারিদের মারধরে আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

প্রশাসনকে তথ্য দেয়ার সন্দেহে পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধ কারবারিদের মারধরে আহত হাশেম প্রামাণিক (৪৫) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। হাশেম প্রামাণিক উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলী প্রামাণিকের ছেলে। এদিকে এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি শাহীন নামের এক যুবককে আটক করে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নটাবাড়িয়া গ্রামে লোকচক্ষুর আড়ালে ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন পুলিশকে ম্যানেজ করে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে বিক্রি করতো। বিষয়টি গোপন সংবাদে জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী তার কারখানায় অভিযান চালান। এ সময় বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, ভেজাল দুধ ও দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় মোমিনকে।

এরপর দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার হন মোমিন। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মোমিন আবারো ভেজাল দুধের কারবার শুরু করলে দ্বিতীয় দফায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও ভেজাল দুধ জব্দ করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী। এ ঘটনায় থানায় মোমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়। এরপর পুলিশ মোমিনের বাবাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। এদিকে প্রশাসনকে তথ্য দেয়ার সন্দেহে হাশেম আলীসহ কয়েকজনকে গত ২৯শে মে আব্দুল মোমিন ও তার লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় হাশেমকে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মারা যান। এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি অলিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি শাহীনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন