কৃষিনির্ভর নাজিরপুরে শিল্প-কারখানা স্থাপনের দাবি

কৃষিনির্ভর নাজিরপুরে শিল্প-কারখানা স্থাপনের দাবি

ফন্ট সাইজ:

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা কৃষিনির্ভর একটি জনপদ হিসেবে পরিচিত। ধান, পাট, শাক-সবজি, মাছ, নারিকেল ও সুপারি উৎপাদনের মাধ্যমে এখানকার অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় এ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে শিল্প-কারখানার অভাবে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দিন দিন জোরালো হচ্ছে শিল্পায়নের দাবি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কৃষি উৎপাদন ভালো হলেও উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা প্রায়ই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষিপণ্যের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিতে মৌসুমি আয় থাকলেও সারা বছর কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। ফলে অনেক শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবক কাজের সন্ধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছেন।

নাজিরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার অনেক পরিবারে একজন বা একাধিক সদস্য জীবিকার তাগিদে অন্য জেলায় অবস্থান করছেন। এতে পরিবার রেখে কাজের জন্য অন্যত্র অবস্থান করতে হয়, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও নাজিরপুর এখনো বড় ধরনের বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত। অথচ নদী ও খালবেষ্টিত এই উপজেলায় কৃষি, মৎস্য এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে নারিকেল ও সুপারি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, মাছ সংরক্ষণাগার, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, নাজিরপুরে একটি পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে শুধু উপজেলার নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন হবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। একাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক। উচ্চশিক্ষা শেষ করে যেন চাকরির জন্য অন্য জেলায় ছুটতে না হয়। শিল্প-কারখানা স্থাপন হলে আমরা নিজ এলাকাতেই কাজের সুযোগ পাবো এবং নতুন ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবো। নারীরাও শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার কথা বলছেন।

তাদের মতে, গার্মেন্টস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কুটিরশিল্পভিত্তিক কারখানা স্থাপন করা হলে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মসংস্থান হবে, যা পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সচেতন জনসাধারণের মতে, নাজিরপুরে শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও সচেতন মহল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নাজিরপুরে শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, কৃষি নাজিরপুরের প্রাণ, কিন্তু শিল্প হতে পারে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। কৃষির পাশাপাশি শিল্পায়নই পারে নাজিরপুরকে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর উপজেলায় রূপান্তরিত করতে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন