কোথাও জিও ব্যাগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আবার কোথাও জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে চলছে রক্ষা বাঁধ সংস্কার কাজ। কিন্তু প্রতি বছরই স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে ভেস্তে যাচ্ছে এসব সাময়িক মেরামত কাজের অধিকাংশ সংস্কার উন্নয়ন প্রকল্প। আর অরক্ষিত এসব বেড়িবাঁধে প্রতি বর্ষা মৌসুমে বা এর আগেই শুরু হয় ভাঙনের তীব্রতা। যার পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবণের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো কৃষক পরিবার। অন্যদিকে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজের লক্ষ্যে সরকারের লোকসান গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ৫২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৯ দশমিক ২৫ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
যার মধ্যে চম্পাপুরের দেবপুর, মহিপুরের নিজামপুর ও ধুলাসারসহ নীলগঞ্জের সদরপুরও রয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আন্ধারমানিক নদী লাগোয়া সদরপুর খ্রিস্টান পাড়া স্লুইস গেট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বাঁধে স্লুইস গেটের উপরিভাগ অন্তত ১২ ফুট ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি বাঁধটি রক্ষায় ইতিপূর্বে পাউবোর নির্মিত গাইডওয়ালেও ভাঙন ধরেছে। তবে কংক্রিট ঢালাইয়ের তৈরি গাইডওয়ালটি স্থির রাখতে মোটা দড়ি ব্যবহার করে গাছে বেঁধে রেখেছেন স্থানীয়রা। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে খ্রিস্টান পাড়া স্লুইস গেট। প্রাকৃতিকভাবে দুর্যোগ নেমে এলে জোয়ারের ঝাপটায় সামান্য টিকে থাকা বাঁধের অংশটি বিলীন হয়ে যাবে। তখন বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবেশ করে তলিয়ে যাবে গ্রামের পর গ্রাম। ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকা অরক্ষিত এই বাঁধ নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন হাজারো মানুষ। তাদের বক্তব্য, খ্রিস্টান পাড়া স্লুইস বাঁধটি আসছে মৌসুমে লাগাতার বর্ষণের আগেই জরুরি সংস্কার কিংবা মেরামত এখন সময়ের দাবি।
না হলে প্রকৃতির বৈরিতায় বেড়িবাঁধ ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নদী লাগোয়া বসবাসকারী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। বেড়িবাঁধ লাগোয়া স্থানীয় মুদি দোকানি তৃমন বারই জানান, ৭ নং ওয়ার্ড সদরপুরের এই মূল বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এখন সবাই ঝুঁকি নিয়ে স্লুইস গেটের উপর দিয়ে যায়। কিছু হোন্ডা ছাড়া তিন চাকার গাড়ি চলাচলের অবস্থা নেই। এ ছাড়া বাঁধ ভাঙনের শঙ্কা ছাড়াও স্থানীয় কৃষক কালু শিকদার, মো. জহিরুল ও মানিক কাজীসহ আরও অনেকেরই দাবি সংস্কার নয়, টেকসই এবং স্থায়ী বাঁধ করা হলে প্রতি বছর সরকারিভাবে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতো না।
আর জোয়ারের পানিতে এলাকার মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, উপজেলার ৯ দশমিক ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চম্পাপুরের দেবপুর, মহিপুরের নিজামপুর ও ধুলাসারসহ নীলগঞ্জের সদরপুর রয়েছে। তিনি বলেন, সদরপুর ৪৭/১ পোল্ডারের ওই স্লুইসটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এটা আমরা অবগত। বর্ষা মৌসুমের আগেই জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে বার বার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আমি অবহিত করবো।
