উত্তরের রেলের শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলের জায়গা দখল থামছে না। ঐতিহ্যের শহর রেললাইন দখল, অবৈধ স্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। রেললাইনের দুই পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, হোটেল, গুদাম ও বহুতল ভবন। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ঝরছে তাজা প্রাণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, গুমটি, ঢেলাপীর ও বাজার ঘেঁষা অংশে রেললাইনের খুব কাছেই চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে পথচারী, দোকান কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইনের আশপাশে অবৈধ দোকান ও মানুষের ভিড় থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ ছাড়া, ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আকবর আলী নামে এক হোটেল শ্রমিকও ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন অতি সম্প্রতি। ঘটনাস্থল ছিল রেলগুমটি-সংলগ্ন ব্যস্ত এলাকা, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রেললাইন ব্যবহার করে শর্টকাট পথ হিসেবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সৈয়দপুরে শত শত একর রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি রেলের শহরকে বাঁচাতে হলে আগে রেললাইনকে নিরাপদ করতে হবে। না হলে প্রতিনিয়ত এভাবেই ঝরে যাবে আরও তাজা প্রাণ। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেললাইনের উভয় পাশে ১৪৪ ধারা জারি রাখার বিধান রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলপথের ওপর বাজার বসানো তো দূরের কথা, রেললাইনের ওপর দিয়ে পথচারী চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আছে বিদ্যমান আইনে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরইমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেললাইনের মার্কিং করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি মাহমুদ-উন নবী বলেন, নির্দেশনা পেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি জানান, গত এক মাসে সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক হতে হবে।
