জেলখানায় বন্দি ৯ মাস, তবুও বন্ধ হয়নি বেতন-ভাতা!

ফন্ট সাইজ:

আল-মুস্তানসির বিল্লাহ। বিল্লাহ নামেই পরিচিত বেশি। চাকরি করেন বগুড়া সদরের নওদাপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। অফিস সহায়ক পদে। চাকরি দেয়ার নাম করে বিভিন্ন মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই বিল্লাহ। ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মামলায় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে গ্রেপ্তার হয়ে বিল্লাহ এখন জেলখানায় বন্দি রয়েছেন। প্রভাবশালী ওই অফিস সহায়ক জেলে থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতাদি পাচ্ছেন। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ নজরের কারণে তার বিল বন্ধ হয়নি। এমনকি শোকজ বা বরখাস্ত কিছুই হননি। সিভিল সার্জনকেও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোনো চিঠি দেননি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর। উল্টো তিনি মানবজমিনের কাছে একেকবার একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি বললেন বিল্লাহ নিখোঁজ। কোথায় আছেন তার কোনো তথ্য জানা নেই। কিছুক্ষণ পরে স্বীকার করেন সে জেলে আছে। তিনি কীভাবে বেতন পাচ্ছে জানতে চাইলে প্রথমে বলেন আট মাস আগে তার বেতন বন্ধ করে দিয়েছি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী তার দেয়া তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।

পরে একজন পিয়নকে ডাকা হয়। ওই পিয়ন বলেন, বিল্লাহর বিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ করা হয়েছে। এখানেও পিয়নের দেয়া তথ্যের সঙ্গে ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝরের তথ্যের মিল নেই। চিঠি ইস্যুর বিষয়ে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর আমাকে কোনো চিঠি দেননি। বিষয়টি কেন এতদিন তিনি আমাকে জানালেন না সেটা আমার বোধে আসছে না। সরজমিন গত বৃহস্পতিবার নওদাপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে তার হাজিরা খাতায় দেখা যায়, তিনি সেখানে ২০২৫ সালের ৭ই আগস্ট সর্বশেষ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহমুদা খাতুন জানান, মুস্তানসির বিল্লাহর পোস্টিং এখানে হলেও পরে তাকে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিসে আসেন না। জেলখানায় আছেন, এর বেশি কিছু জানি না।

নওদাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম এবং আবু সালাম মানবজমিনকে জানান, মুস্তানসির বিল্লাহ তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেয়ার কথা বলে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আশপাশের এরকম বহু মানুষের কাছে বিল্লাহ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। তারা বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন কিন্তু কোনো সমাধান বা বিচার পাননি। বিল্লাহ নানা রকমের কূটকৌশল জানা মানুষ। তাকে পছন্দ করে নিজের অফিসে বদলি করে আনেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর। চাকরি দেয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ওই অফিস সহায়ক। তার স্যার (ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর) এসব চাকরির ব্যবস্থা করবেন, এই কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কিছু ভুক্তভোগী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝরের কাছে লিখিত এবং মৌখিক অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো সুরাহা করেননি। ভুক্তভোগীদের অনেকেই আদালতে মামলাও করেছেন। এখন পর্যন্ত মানবজমিনের হাতে চারটি মামলার তথ্য এসেছে। এর মধ্যে দুটি মামলার একটির ৬ মাস এবং আরেকটির ১ বছর সাজা হয়েছে। গত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে বিল্লাহ গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় বন্দি রয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি জেলখানায় বন্দি থেকেও রীতিমতো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর তার জেলবন্দির বিষয়টি গোপন রেখে নিয়মিত বিল প্রদান করেছেন। বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নেবো। কেন আমাকে জানানো হলো না আর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তিনিও কেন জানলেন না বিষয়টি ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন