দুবাইয়ের শাসকের এক ভাতিজার সাবেক স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন জানিয়েছে, জয়নব জাভাদলিকে তার তিন সন্তানের পিতা, সাবেক স্বামী শেখ সাঈদ বিন মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুমের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
তিনি অভিযোগ করেছেন, আদালত অনুমোদিত সাক্ষাতের সময় জাভাদলি তাদের সন্তানদের অপহরণ করেছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে জাভাদলির পরিবার ও বন্ধুরা তার সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন এবং তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রায় দুই দিন ধরে জাভাদলি বা তার সন্তানদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কয়েক মাস ধরে তিনি খুব কমই বাড়ির বাইরে বের হতেন। কারণ তার বিশ্বাস ছিল নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার সন্তানদের কেড়ে নিতে এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে অপেক্ষা করছেন। গত বছর তার সাবেক স্বামী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি জাভাদলির বিরুদ্ধে তাদের কন্যাদের অপহরণের অভিযোগ আনেন। এর আগে সন্তানদের কয়েকবার মা-বাবার মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করেন।
সাবেক আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্ট জাভাদলি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ই-ক্রাইমস বা অনলাইন অপরাধসংক্রান্ত মামলায় সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের মুখেও রয়েছেন। গত বছর তিনি এমনই এক মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনা লাইভস্ট্রিম করেন।
সে সময় তার পক্ষে প্রচারণা চালানো বৃটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ডেভিড হেইগকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি জানতাম, আমার সন্তানদের সঙ্গে থাকার এটিই শেষ সুযোগ, কারণ এরপর তারা আর কখনো আমাকে তাদের দেখতে দেবে না। আমি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলাম এটি আমার শেষ সুযোগ। তাই আমি একটি লাইভস্ট্রিম চালু করি এবং সাহায্যের আবেদন জানাই।
শেখ সাঈদ বিন মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুমের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা সন্তানদের হেফাজতসংক্রান্ত আদালত শুনানিতে দাবি করেছেন, জাভাদলি একজন অযোগ্য মা। তাদের অভিযোগ, তিনি তার মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। হোটেলে থাকার সময় শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত পরিবেশে বসবাস করেছেন এবং সবচেয়ে ছোট মেয়েটির স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেয়া এক বিবৃতিতে দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন জানায়, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা শিশুদের কল্যাণ ও সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখব।
এর জবাবে ডেভিড হেইগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে জাভাদলিকে অবিলম্বে তার আইনজীবী, কনস্যুলেট এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়া হয় এবং তাকে দুবাইয়ে তার বাসায় ফিরে যেতে মুক্তি দেয়া হয়।
