শেষ মুহূর্তে যে সিদ্ধান্তে বিতর্কে ফিফা

শেষ মুহূর্তে যে সিদ্ধান্তে বিতর্কে ফিফা

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক
সংস্থাটি বিশ্বকাপের সব স্টেডিয়ামে দর্শকদের পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিফিল) পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এর আগে ফিফার অফিসিয়াল স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে উল্লেখ ছিল যে, এক লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার খালি ও স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পুনঃব্যবহারযোগ্য বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে। তবে সম্প্রতি সেই নির্দেশিকা সংশোধন করে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যেকোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামে নেয়া যাবে না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন সমর্থকরা।

পানির বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার ফলে তৃষ্ণার্ত দর্শকদের স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি কিনতে হবে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। গত মাস পর্যন্তও ফিফার স্টেডিয়ামবিষয়ক আনুষ্ঠানিক আচরণবিধিতে উল্লেখ ছিল, ‘কোনো দ্বিধা ছাড়াই দর্শকরা স্টেডিয়ামের ভেতরে সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনঃব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।’ কিন্তু ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ গত বুধবার জানায়, সেই নির্দেশিকা পাল্টে এখন পুনঃব্যবহারযোগ্য বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফিফার হালনাগাদ করা আচরণবিধিতে বলা হয়, ‘কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই জানানো যাচ্ছে যে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না।’

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে আগে থেকেই পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলোয়াড় ও দর্শকদের যেকোনো ধরনের ঝুঁকি ও চোট থেকে রক্ষা করতেই বোতল নিষিদ্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে আগে থেকেই বাইরের বোতল আনা নিষিদ্ধ ছিল। ফিফা এখন টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামেই এই নিয়ম কার্যকর করছে।’

ফিফা আরও জানিয়েছে, স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির যন্ত্র, ফ্যান, পানি পানের ব্যবস্থা এবং কুলিং টেন্টের (ঠান্ডা হওয়ার জায়গা) ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি এমন দামে বিক্রি করা হবে, যা ‘ওই সব ভেন্যুতে আয়োজিত অন্যান্য ইভেন্টে পানির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ১১ই জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকরা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করার পরও ফিফা এ নিয়ম পরিবর্তন করলো।

গত মাসে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ গবেষণা সংস্থার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ২৬টি ম্যাচই এমন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোবাল টেম্পারেচার’ (ডব্লিউবিজিটি) ২৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে। ডব্লিউবিজিটি হলো মানুষের শরীরে তাপমাত্রার চাপের একটি পরিমাপক পদ্ধতি, যা মূলত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাস ও সূর্যালোকের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও দর্শকরা প্রচণ্ড গরমের অভিযোগ করেছিলেন। সে সময়ও স্টেডিয়ামের ভেতরে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাননি সমর্থকরা। এবারো ঘটলো একই ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে দর্শকদের মধ্যে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন