দিল্লি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে সেই পরিবারে। শোকে স্তব্ধ চারদিক। বুধবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগারওয়াল পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের করিডোর ও মর্গের মধ্যে ছুটে বেড়িয়েছেন। মোবাইল ফোনে স্বজনদের ছবি দেখিয়েছেন, আর শেষ আশা আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। কেউ অপেক্ষা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) মর্গের বাইরে। আবার কেউ দাঁড়িয়ে ছিলেন ম্যাক্স হাসপাতাল ও এইমস ট্রমা সেন্টারের ভীড়াক্রান্ত করিডোরে। বারবার ফোনে খবর খুঁজেছেন, কিন্তু কোনো সুখবর আসেনি।
শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কাই সত্যি হয়, পরিবারের আট সদস্য হোটেলে আগুন লেগে নিহত হয়েছেন। পরিবারটি দিল্লিতে এসেছিল রাধে শ্যাম আগারওয়ালের চিকিৎসার কারণে। সত্তরের কোটায় থাকা রাধে শ্যাম কয়েকদিন ধরে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন নিউজ-১৮ বলছে, তার ছেলে গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা ও একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক বিবেক আগারওয়াল। তিনি হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জন্য হাউজ রানীর ‘ফ্লারিশ স্টেজ’ নামের একটি বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেন। হাসপাতালটি সেখান থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে। বিবেক সেখানে অবস্থান করছিলেন তার মা প্রেমলতা, স্ত্রী তারজনি এবং দুই মেয়ে জীবিস্কা ও ওয়ারিয়ার সঙ্গে।
বিবেকের শ্বশুর প্রেম বনসাল বলেন, হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ার কারণেই তারা হোটেলটি বেছে নিয়েছিল। পরিবারটি সব সময় হাসপাতালের কাছে থাকতে চেয়েছিল। আমরা আশা করছিলাম, খুব শিগগিরই রাধে শ্যামকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে।
বিবেকের এক মেয়ে ব্যাঙ্গালুরু থেকে দাদার সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে এসেছিলেন বলে জানান তার চাচাতো ভাই বিজয় আগারওয়াল। স্বল্প সময়ের একটি পারিবারিক সফরই পরে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়। বুধবার ভোররাতে বিবেক দিল্লির কোটলা এলাকার এক আত্মীয়কে আতঙ্কিত কণ্ঠে ফোন করতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, এখানে আগুন লেগেছে। এটাই ছিল পরিবারের অনেক সদস্যের কাছে তার শেষ বার্তা।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৪০ জন আত্মীয় ম্যাক্স হাসপাতালে ছুটে যান। তারা আশঙ্কা করেন, বিবেক এবং তার সঙ্গে থাকা পরিবারের চার সদস্য ওই আবাসিক হোটেলের ভেতরে আটকা পড়েছেন। কিন্তু ট্র্যাজেডি শুধু বিবেকের নিকট পরিবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই হোটেলে ছিলেন বিবেকের মামা অশোক গোয়েল। তিনি কিশনগড় থেকে এসেছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন তার মায়ের বোন কমলা এবং তার স্বামী জিমরি। এক আত্মীয় বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন রাধে শ্যামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সে কারণেই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা সবাই চলে এসেছিলেন।
বুধবার বিকাল নাগাদ ছয়জন মামাতো ভাইবোন এইমস মর্গের বাইরে জড়ো হন। এদিকে নিহতদের শনাক্ত করতে অশোক গোয়েলের ছেলে কিশনগড় থেকে দিল্লিতে যান। এইমস ট্রমা সেন্টারের বাইরে, শোকাহত পরিবার, রোগী ও পুলিশ সদস্যদের ভিড়ের মধ্যে শালিমার বাগের বাসিন্দা যোগেশ আগারওয়াল ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক তথ্যকেন্দ্র থেকে আরেকটিতে ঘুরেছেন। তিনি অশোক ও কমলার খোঁজ করছিলেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু জানতে চাই তারা কোথায় আছেন। খারাপ খবর হলেও অন্তত নিশ্চিত হতে পারবো। এই অনিশ্চয়তা অসহনীয়। অবশেষে সন্ধ্যায় পরিবারের সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হয়। বর্ধিত পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আর সেই সময় ম্যাক্স হাসপাতালের আইসিইউতে রাধে শ্যাম আগারওয়াল চিকিৎসাধীন। নিজের পরিবারের ওপর নেমে আসা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর তখনো তিনি জানেন না।
