ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে একেবারে তলানির দল সান মারিনো। বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ ধাপ পিছিয়ে থকা দেশটি এ পর্যন্ত খেলা ২২৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। সান মারিনো সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে প্রায় এক বছর আগে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিতে ১-০ গোলে হেরেছে তারা। সান মারিনোর সবশেষ খেলা স্কোয়াডে শতভাগ পেশাদার ফুটবলারের সংখ্যা মোটে চার থেকে পাঁচজন। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের মাঠে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেও জয়ের কথা বলতে পারছেন না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কন্ডিশন আর ইউরোপে দেশ এসব দোহাই দিয়ে সান মারিনোকে কঠিন প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলছেন জামাল-তপুরা। নতুন কোচ থমাস ডুলিও ফুটবলারদের সুরেই কথা বলছেন।
সান মারিনোতে পৌঁছেই তিনি জানিয়েছিলেন, ওরা নিয়মিত ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে। ওদের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না। সান মারিনোতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে এই ম্যাচ। বাংলাদেশ এর আগে ইউরোপের মাটিতে একটি ম্যাচ খেলেছে ২০০০ সালে। তবে ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটিতে হওয়া ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। সেটি ছিল ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। বাংলাদেশ হেরেছিল ১-০ গোলে। বাংলাদেশ ইউরোপের দেশের বিপক্ষে আগে দু’টি ম্যাচ খেলেছে। দু’টিই ছিল ভারতের মাটিতে। ২০০১ সালে ভারতের কোচিতে হওয়া মিলেনিয়াম সুপার সকার কাপে বাংলাদেশ বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা এবং যুগোসøাভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলে হেরেছিল ২-০ ও ৪-১ গোলে। ইউরোপের তৃতীয় প্রতিপক্ষ সান মারিনো। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে কাগজ-কলমে সান মারিনো বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বলতম দল। বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্রতম এবং প্রাচীনতম স্বাধীন দেশ সান মারিনো। এটি ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চার দিকে ইতালি দিয়ে ঘেরা একটি দেশ। আয়তন মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার। আয়তনে বিশ্বের পঞ্চম এবং ইউরোপের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। জনসংখ্যা ৩৫ হাজারের মতো। দেশটিতে নিবন্ধিত ফুটবলারের সংখ্যা ২ হাজারেরও কম। সান মারিনো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা শুরু করে ১৯৮৬ সালে। গত ৪০ বছরে মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতেছে দেশটি। তিনটিই জিতেছে ইউরোপের আগের দুর্বল দেশ লিচনস্টেইনের বিপক্ষে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দেশটির অবস্থান ২০৬।
এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ানদের নিয়েও সরাসরি জয়ের কথা বলতে পারছে না বাংলাদেশ। এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের ম্যানেজার আমের খান বলেন, ওরা নিয়মিত ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে থাকে। যে কারণে ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিনই হবে। গোলরক্ষ সুজন হোসেনও বাস্তবতা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে সান মারিনো বেশির ভাগ সময়ই খেলে থাকে ইউরোপের বড় বড় দলের বিপক্ষে। তিনি বলেন, ইউরোপে আসছি এবং ইউরোপের একটা টিমের সঙ্গে খেলবো। যেটা ইতিহাসে প্রথমবার এবং আমরা জানি যে সান মারিনোর র্যাঙ্কিং নিচের দিকে। কিন্তু ইউরোপিয়ান দল হিসেবে যদি ধরি, নিয়মিত ওরা কাদের সঙ্গে খেলে এটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। এবং এখানে র্যাঙ্কিং কোনো ব্যাপারই না। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলা এই গোলরক্ষক এটাও জানান যে ম্যাচের দিন প্রচুর বাংলাদেশি সমর্থক থাকায় তাদের জন্য মাঠটা নিজেদের মতো মনে হবে। এই ম্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন কোচ থমাস ডুলির অধ্যায় শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশে আসার পর এই ম্যাচের আগে বেশ কিছু সেশন করেছেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে। তার দর্শন এবং টেকনিক্যাল, টেকটিক্যাল দিকগুলোর সঙ্গে খেলোয়াড়েরা মানিয়ে নিয়েছেন বলে জানান সহকারী কোচ হাসান আল মামুন।
বাফুফের পাঠানো অডিও বার্তায় তিনি বলেন, থমাসের (ডুলি) অধীনে আমরা ঢাকা থেকে অনুশীলন শুরু করি। অনেকগুলো সেশন হয়ে গেছে। তার যে আইডিয়া, গেম প্ল্যান, এবং একটা কোচ থেকে আরেকটা কোচের অধীনে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের খেলোয়াড়েরা মানিয়ে নিয়েছে। আশা করি সান মারিনোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীপূর্ণ একটি ম্যাচই হবে।
