পুরনো প্রতিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জ মারিয়াদের

পুরনো প্রতিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জ মারিয়াদের

ফন্ট সাইজ:

ভারতের গোয়ায় চলছে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম আসর। সর্বশেষ দুই আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নেপালকে হারিয়ে। তার আগে প্রথম পাঁচ আসরেই শিরোপা জিতেছিল ভারত। যার মধ্যে ছিল ২০১৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়। ১০ বছর পর আবারো নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই দল। আগামীকাল গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাতটায় শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে তারা। হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশ দল এবার গ্রুপ পর্বেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলেছিল। সেই ম্যাচে পিটার বাটলারের দল হেরেছিল ৩-০ গোলে।

তবে গ্রুপের অপর দল মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে বাংলাদেশ। প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে ফাইনালে ওঠে মারিয়া-ঋতুপর্ণারা। এরপর রাতে অন্য সেমিফাইনালে সানফিদা ননগ্রুমের (৫৮) একমাত্র গোলে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। তবে সেফিইনালে ভারতের পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি নন দলটির কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী। দার্জিলিংয়ে কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা এই কোচ ম্যাচ শেষে জানিয়েছিলেন, এই জয় তাদের প্রাপ্য ছিল না। তবু আমরা ১-০ গোলে জিতেছি। ফুটবল কখনো কখনো শুধু টেকনিক আর ট্যাকটিকসের খেলা নয়, এটা মনেরও খেলা। ভুটানের মেয়েরা একেকজন যোদ্ধার মতো খেলেছে। আমার মতে, জয়টা তাদেরই প্রাপ্য ছিল। আমাদের ৯০ মিনিট জুড়েই ভালো খেলা উচিত ছিল।’ ভারতের কোচ মনে করেন, ভুটানকে তারা বড্ড হালকাভাবে নিয়ে ফেলেছিলেন এবং প্রথমার্ধেই সৌভাগ্যবশত ২ গোল হজম করেননি তারা।

তবে আগামীকালের ফাইনাল ম্যাচটি যে পুরোপুরি অন্য এক ম্যাচ হবে, তা ভালো করেই জানা আছে এ কোচের। ফাইনালে বাংলাদেশকে সমীহ করে ছেত্রী বলেন, ‘ওটা ভিন্ন ম্যাচ। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ফাইনালে পুরো শক্তি নিয়ে আসবে। আমাদের জন্য ফাইনাল মোটেও সহজ হবে না। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে আমাদের আলাদা কোনো উজ্জ্বীবনী শক্তির দরকার নেই, এটা এমনিতেই চলে আসবে।’ বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলারও বলছেন ফাইনাল আট দশটা ম্যাচের মতো হবে না। মেয়েরা সেটা জানে। ওরা ফাইনাল খেলে অভ্যস্ত। তবুও গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপ ও ভারত ম্যাচের বির্বণতা একেবারে ভুলে যাননি পিটার বাটলার। মুঠোফোনে এই প্রতিবেদনকে বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপ ও ভারত ম্যাচের কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সেমিফাইনালে রক্ষণের বিবর্ণতা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিললেও তা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে যা চলে আমি খুশি। এর বেশি চাওয়াটা বাড়াবাড়ি হবে জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই অঞ্চলের রক্ষণভাগ, বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবলে, আপনি কখনোই নিখুঁত সংমিশ্রণ পাবেন না। সবসময়ই প্রতিকূলতা এবং সমস্যার মুখোমুখি হবেন। এই মেয়েদের ক্ষেত্রে আপনাকে যা মনে রাখতে হবে, তা হচ্ছে, তাদের অনেকেরই অতীতে সঠিকভাবে কোচিং করানো হয়নি। আর এটা কখনো কখনো কিছু খারাপ অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়ও। মানুষ হাই-লাইন ডিফেন্স নিয়ে কথা বলে, মানুষ মিড-ব্লক বা লো-ব্লক নিয়ে কথা বলে; আমি এসব আজগুবি ও কাল্পনিক তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। আমি পুরান ঘরানার মানুষ। আমি বিশ্বাস করি, যেখানে আঘাত লাগার ভয় আছে সেখানে মাথা গলিয়ে দেয়া, পা বাড়িয়ে দেয়া, আক্রমণাত্মক হওয়া, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এবং ধৈর্য ধরা।’ ভারত ম্যাচেও আট-দশটা ভিন্ন ম্যাচের মতো খেলবো। মেয়েদের আমি শুধু সেটাই বলেছি। তোমরা ফাইনাল মনে না করেও নতুন আর একটা ম্যাচের জন্য তৈরি হও। ওরা সেটাই হচ্ছে। ভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হচ্ছে মেয়েরা’।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন