ঘরে পুঁতে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ঘরে পুঁতে রাখা নারীর মরদেহ উদ্ধার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের দুইদিন পর ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মারুফা বেগম (৬০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত মারুফা ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মারুফার ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করতেন। গত সোমবার থেকে হঠাৎ করেই মারুফা নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এরপর ঢাকায় থাকা ছেলে লাভিনের বাড়িতে ফিরে মায়ের খোঁজ শুরু করেন। গত বুধবার তার স্ত্রী ঘরের বিছানা গোছানোর সময় তোশকের নিচে রক্তের দাগ এবং ঘরের মেঝেতে অস্বাভাবিক ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি তিনি লাভিনকে জানালে তিনি থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে রক্তের দাগ ও সন্দেহজনক ফাটল দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের মেঝে খনন করে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মারুফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছেলে লাভিন অভিযোগ করে বলেন, মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। এরপর ভাবী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান।

ওই দিন থেকেই মা নিখোঁজ ছিলেন। আমার ধারণা, বড় ভাই জুয়েল মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রেখেছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, নিহতের ছোট ছেলে থানায় এসে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ ও মেঝেতে ফাটল দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় খননকাজ চালানো হয়। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন