টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের চারদিন পর আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু (৪৫) নামের এক যুবদল কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কাউটেনগর মনপুরা ব্রিজ সংলগ্ন মাউচা বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
নিহত আমিনুল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার শিক্ষক আব্দুল মজিদ মাস্টারের ছেলে ও গাজীপুরের টঙ্গী পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। নিহতের পরিবার বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান সংগ্রামপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। নিহত মিন্টু নিজেও সংগ্রামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সূত্রমতে, ৩১শে মে রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন মিন্টু। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সবস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে বুধবার গভীর রাতে স্থানীয়রা মাছ ধরতে গেলে কাউটেনগর মাছুয়া বিলের কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই এবং বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ভাইকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। আমি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ঘাটাইল থানার ওসি মোকছেদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
