মাদক মামলায় জামিনে এসেই মামলার বাদী ও সাক্ষীকে পিটিয়ে জখম করার প্রতিবাদে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে মানবন্ধনের স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ী পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের বাবুকে যাত্রাপুর গ্রাম থেকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে তাকে চিপা গলিতে নিয়ে ছেড়ে দেয়।
মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। যার ফলে মামলার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মাদক নির্মূলে যেখানে আমরা গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি, সেখানে প্রশাসন থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। উল্টো মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রামবাসীর উপর হামলা করছে। যদি মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা নিরাপত্তা না পায় তাহলে ভবিষ্যতে কেউ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলবে না। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন শাখাওয়াত হোসেন শামীম, শরীফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান সোহাগ, এমদাদুল হক সোহেল, সায়েম হোসেন, সিরাজ মিয়া। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোশাররফ হোসেন রানা, জুনায়েদ হোসেন, মোহাম্মদ আলী, হাবিবুর রহমান, মীর হোসেন, আবু রশীদ, ইয়াসিন মিয়া, মকবুল আহমেদ, মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ। গত ১লা জুন রাতে যাত্রাপুর গ্রামে মাদক সেবনকালে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। ওইদিন সন্ধ্যায় জামিনে চলে আসে অভিযুক্ত যাত্রাপুরের শাহজাহান মিয়া, পৌরসভার শ্রীপুর পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন, ওয়াসিম এবং ফেলনা গ্রামের মুসা। পরদিন সকালে মামলার বাদী আবুল বাশারের ছেলে সাক্ষী জুনায়েদ চৌদ্দগ্রাম বাজার গেলে আসামি বাবুর নেতৃত্বে মারধর করে জখম করে তাকে। এই ঘটনায় একই দিন থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে মাদক ব্যবসায়ী বাবু সংঘবদ্ধ দল নিয়ে যাত্রাপুরের বেশ কয়েকজনের ওপর আবারো হামলা করে।
এতে জোনায়েদ হোসেন, কামরুজ্জামান সোহাগ, সাদ্দাম হোসেন, সাইম, সুমন, মামুন ও ইকবাল হোসেন আহত হয়। এরপর চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মাদকসেবীকে আটক করে। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, হামলাকারীদের বিষয়ে অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত মামলা হিসেবে গ্রহণ করি। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আসামি ধরে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নাই।
এই ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
