বাসায় বসে অফিস করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ

বাসায় বসে অফিস করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ

ফন্ট সাইজ:

মঙ্গলবার। ২রা জুন। ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর পৌনে একটা। ডিলার এবং মিলারদের অপেক্ষা। খাদ্য কর্মকর্তার ডেস্ক ফাঁকা। কোথায় আছেন তিনি খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার বাসায় আছেন। মুঠোফোনে কল দিলে ফোন রিসিভ করেন না। ভোগান্তির শিকার মিলার এবং ডিলাররা দাঁতের উপরে দাঁত চাপা দিয়ে নীরবে সয়ে যান। বিল-ভাউচার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে অফিসের পিয়ন রিপন এবং সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক শামীম জাহানের মাধ্যমে বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর আনতে হয়। এইভাবে দিনের পর দিন চলছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ ইব্নে সালাম। ওই কর্মকতা ছুটিতে আছেন কি না জানতে কথা হয় গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমানের সঙ্গে।

তিনি মানবজমিনকে বলেন- আজ অফিস খোলা। কর্মকর্তা ছুটিতে নেই। অফিসেই থাকার কথা। আমি খোঁজ নিচ্ছি। ফোনে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সোর্স মাধ্যমে জানা যায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ ইব্নে সালাম তড়িঘড়ি করে অফিসে চলে আসেন। ওদিকে, এলাকার কিছু ডিলার এবং মিলারদের অভিযোগ সাঘাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ ইব্নে সালাম তার ইচ্ছামতো অফিসে আসেন অফিস থেকে চলে যান। সরকার নির্ধারিত সময়কে তিনি বেশির ভাগ দিন উপেক্ষা করেন। এতে স্থানীয় চাতাল মিল এবং ডিলার ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে শিকার হন তার এই অনিয়ম নিয়ে কথা বললে ব্যবসায়িক ঝামেলায় পড়বেন বলে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মিলার এই সব অভিযোগ তুলে ধরেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জাহিদ খন্দরকার মানবজমিনকে জানান, সাঘাটা উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক বেশির ভাগ সময় অফিসে থাকেন না। তার অফিসের কমিউটার অপারেটর আলম ওই অফিসে অফিসারের ভূমিকায় থাকেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ ইব্নে সালাম তাকে দিয়ে অফিসের সব কাজ করান। আর ডিলার এবং মিলারদের বিল ভাউচারসহ অন্যান্য কাজের ফাইল বাসায় বসে স্বাক্ষর করেন। তিনি আরও বলেন, ওই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল পাস হয় না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মাসুদুর রহমান প্রধান বলেন, সাঘাটা উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর একটি দুর্নীতির আখড়া। এই দপ্তরগুলোকে কঠোরভাবে নজরদারিতে আনা দরকার।

অপরদিকে চলতি বোরো মৌসুমে মিলারদের বরাদ্দ নিয়েও কথা উঠছে ফাহাদের বিরুদ্ধে। তিনি মিল পরিদর্শন না করেই অর্থের বিনিময়ে অনেক অযোগ্য মিলারদের চালের বরাদ্দ দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মিলার অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, সাঘাটা উপজেলা মিলমালিক সমিতির সভাপতি আব্দল হালিমের ‘সোহান চালকাল’ একটি বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও তাকে ৪টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি কাগজে কলমে মিল দেখিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরিফ চালকলের দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামো না থাকলেও অদৃশ্য কারণে ওই মিলকেও এবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়গুলো নিয়ে আবারো উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাহাদ ইবনে সালামকে ফোন দিলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, আমি নিয়মিত অফিস করি। মাঝেমধ্যে মাঠে কাজ থাকে এজন্য বাইরে যেতে হয়। তিনি সবগুলো চালকল তদন্ত সাপেক্ষে বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানান। বরাদ্দে কোনো রকম নয়ছয় হয়নি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন