শতাধিক আমানতকারীর ৪ কোটি টাকা নিয়ে উধাও মাল্টিপারপাস কর্মকর্তা

ফন্ট সাইজ:

নওগাঁ সদরের ধামকুড়ি গ্রামের উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে কষ্টার্জিত টাকা আমানত রাখায় এখন ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে হতদরিদ্র দুই অসহায় নারী চালকল শ্রমিক লতা খাতুন (৫৫) এবং পাতা কুড়ানি রেনুকা খাতুন (৬০)-এর জীবনে। গেল ঈদুল আজহার ১৫ দিন আগে প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎ আত্মগোপন করায় শেষ সম্বল হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই দুই বয়স্ক নারীসহ শতাধিক আমানতকারী।

চালকল শ্রমিক লতা খাতুন জানান, প্রায় ৫ বছর আগে চালকলে কাজ করে খুদ বিক্রি করে ও মজুরির কষ্টার্জিত ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা তার গ্রামের উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে আমানত রেখেছিলেন। প্রতি মাসে লাখে ১ হাজার টাকা করে লাভ দেয়া হলেও ওই টাকাও তোলেননি লতা। তিনি বলেন, আমার স্বামী সন্তান নেই । তারা ২ বছর ধরে লাভ না দিলে টাকা ফেরত নিতে যাই, কিন্তু টাকা ফেরত দেয়নি। এখন আমারসহ গ্রামের অনেক মানুষের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে তারা। একই গ্রামের বাসিন্দা রেনুকা খাতুন গাছের পাতা ও ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। রাতে কখনো গাছতলায়, কখনো বা অন্যের বাড়ি, দোকানপাট, স্কুলের বারান্দায় রাত্রীযাপন করেন। রেনুকা জানান, গ্রামের ছেলে উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎ-এর উপর ভরসা করে কয়েক বছর আগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আমানত রেখেছিলাম। কিন্তু টাকা না দিয়েই তারা পালিয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা হবার কারণে পালিয়ে যাবার ভয় নেই এমন কথা বলে আস্থা অর্জনের পর গ্রামবাসীর কাছ থেকে অধিক লাভের প্রলোভন দিয়ে শতাধিক আমানতকারীর প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির দুই কর্ণধার আসাদুজ্জামান টিটু ও মাসুদ রানা বিদ্যুৎ।

টাকা ফেরত পাবার আশায় অসহায় নারী ও পুরুষ প্রতিদিন উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির তালাবদ্ধ অফিসের সামনে এসে ভিড় করছেন।
জানা যায়, গত ২০১০ সালে ধামকুড়ি গ্রামের আসাদুজ্জামান টিটু ও মাসুদ রানা বিদ্যুৎ-এর নেতৃত্বে উদয়ের পথে কো-অপারেটিভ সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর প্রথম দিকে মাল্টিপারপাসে আমানতকারীদের প্রতি লাখে মাসে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা লাভ প্রদান করে। এটি জানাজানি হলে গ্রামের হতদরিদ্র পাতা কুড়ানি, চালকল শ্রমিক, বিধবা, চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ প্রায় কোটি টাকা ওই মাল্টিপারপাসে আমানত রাখে। পরে অবশ্য লাভ কমিয়ে প্রতি লাখে ২ হাজার এরপর ১ হাজারে নিয়ে আসার পর গত ২ বছর ধরে লাভ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। আসল টাকা ফেরত চাইলে আমানতকারীদের সাথে নানা টালবাহানা করতে থাকে টিটু ও বিদ্যুৎ।

টাকা ফেরত পেতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন প্রতারিত আমানতকারীরা। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা সমবায় অফিসার আব্দুল্লাহ হিল আবিদ জানান, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জেলার অনেক মাল্টিপারপাস সোসাইটির কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন। উদয়ের পথে মাল্টিপারপাসের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ টাকা আমানতকারীদের ফেরত প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন