চলমান তীব্র দাবদাহে নেত্রকোণার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও রোগীদের অতিরিক্ত বেড কিংবা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার বিপরীতে ১০৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। একই সময়ে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৫ জন, কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৯ জন এবং দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শতাধিক রোগী ভর্তি ছিলেন। একই চিত্র অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বিরাজ করছে। ভর্তিকৃত অধিকাংশ রোগী ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে কিছু রোগী ও তাদের স্বজনদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। নেত্রকোণার সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং খাদ্যে অসতর্কতার কারণে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। ওষুধ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থবছরের শেষ সময় হওয়ায় কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।
