লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রতি বিশ্বজুড়ে ভক্তদের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তিন আর্জেন্টাইন সমর্থক যা করলেন, তা রূপকথার মতো শোনাতে পারে। কেবল প্রিয় দলকে চোখের সামনে দেখার আশায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে ১৭টি দেশের সীমানা পেরিয়ে, প্রায় ১৭,০০০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে।
ভিসেন্তে কনকুলিনি, ইয়ামান্দু মার্তিনেস এবং মিগুয়েল সিলিও—আর্জেন্টিনার গুয়ালেগুয়াইচু শহরের এই তিন বাসিন্দা পেশাদার সাইক্লিস্ট নন। গত বছরের আগস্টে তারা যখন যাত্রা শুরু করেন, তখনো বিশ্বকাপের ড্র হয়নি। তারা জানতেনও না মেসিরা কোন শহরে খেলবেন। শুধু মনে বিশ্বাস ছিল যে, যেখানেই আর্জেন্টিনা যাবে, সেখানেই তারা পৌঁছাবেন।
প্রায় ৩০০ দিনের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি সাইকেলে প্রায় ৮০ পাউন্ডের ওজনের সরঞ্জাম নিয়ে তারা বলিভিয়া ও পেরুর ৫,০০০ মিটারেরও বেশি উঁচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়েছেন। কোথাও কোথাও ছিল মাইনাস তাপমাত্রায়। আবার ইকুয়েডরের জেলখানার দাঙ্গা এবং কলম্বিয়ার গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের মতো চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের। তবে পথেই তাদের দেখা হয়ে যায় বাস্কেটবল কিংবদন্তি ইমানুয়েল গিনোবিলির সঙ্গে। তার সঙ্গে বসে তারা ঐতিহ্যবাহী ‘মেট’ চা পান করেন।
অবশেষে আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে পৌঁছান তারা। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং তাদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউডিও তাপিয়া স্বয়ং এসে তাদের স্বাগত জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাপিয়া লেখেন, ‘আর্জেন্টাইন ভক্তদের এই জার্সি এবং স্কালোনেতার (আর্জেন্টিনা দলের ডাকনাম) জন্য যে উন্মাদনা, তার কোনো সীমা নেই, কোনো সীমানা সে চেনে না।’
তবে এত কষ্টের পর এখনো ম্যাচের কোনো টিকিট পাননি তারা। ফিফার সাইটে পাঁচবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তারা জানান, টিকিট না পেলেও আফসোস নেই। মেসির একটু দেখা পাওয়া আর একটা ছবি তুলতে পারাটাই হবে ১৭,০০০ কিলোমিটার কষ্টের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
