দুলালের ছোট কারখানায় বদলে যাচ্ছে অর্ধশত নারীর জীবন

দুলালের ছোট কারখানায় বদলে যাচ্ছে অর্ধশত নারীর জীবন

ফন্ট সাইজ:

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর, বুইচাকাঠি ও চিথলিয়া এলাকার গ্রামগুলোতে কেমিক্যালের বস্তা থেকে শপিং ব্যাগ তৈরির একটি ছোট কারখানা বদলে দিয়েছে অর্ধশত নারীর জীবন। একসময় অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা এসব নারীরা এখন নিজেদের আয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনছেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা দুলাল হাওলাদার। তিনি বুইচাকাঠি গ্রামের মৃত ইমান উদ্দিন হাওলাদারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন। সেই স্বপ্ন থেকেই গড়ে ওঠে এই ক্ষুদ্র কারখানা। এখানে তিনি কেমিক্যালের বস্তা প্রসেসিং করে নারীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং তারা এর মাধ্যমে ব্যাগ তৈরি করেন। প্রতিদিন নারীরা ঘরের কাজ শেষে অবসর সময়ে বস্তা থেকে শপিং ব্যাগ তৈরি করেন। তাদের উপার্জনে কেউ সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছেন, কেউ সংসারের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, কেউ আবার নিজে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কারখানাটিতে প্রতি মাসে চার থেকে ৫ লাখ টাকার বস্তা প্রয়োজন হয়। একটি বস্তা থেকে দু’টি ব্যাগ তৈরি হয়। প্রতিটি বস্তার দাম ৭ টাকা হলেও প্রতিটি ব্যাগ পাইকারিতে বিক্রি হয় সাড়ে ৫ টাকায়। শ্রমিক খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বাদে প্রতিটি ব্যাগে থাকে প্রায় ৫০ পয়সা লাভ। ব্যাগগুলো স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও উপজেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। দুলাল হাওলাদার নিজেও বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এসব ব্যাগ বিপণন করেন। তবে বর্তমানে ব্যবসাটি প্রায় ৬ লাখ টাকার ঋণের কারণে সংকটে রয়েছে। ব্যাগ তৈরি কারিগর সালমা বলেন, এই কাজ করে আমরা পরিবার চালাতে পারছি। কিন্তু মালিক আর্থিক সংকটে আছেন। সরকারি সহায়তা পেলে কর্মসংস্থানটি আরও বড় হবে।

আরেক নারী কর্মী শিউলী বলেন, আগে সংসারে কষ্ট ছিল, এখন নিজের আয়ে সংসারে সাহায্য করতে পারছি। স্থানীয়রা জানান, এই উদ্যোগ নারীদের আত্মমর্যাদার পাশাপাশি স্বাবলম্বিতাও বাড়িয়েছে। তারা সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে ব্যবসাটি আরও বড় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

দুলাল জানান, ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি বর্তমানে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ঋণের বোঝায় পড়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি সুদমুক্ত ঋণসুবিধা পান, তবে তিনি সহজেই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন