সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে। গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কোরবানি-দাতা, মাদ্রাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। অনেক ক্ষেত্রে ছাগলের চামড়া বিক্রি না হওয়ায় তা ফেলে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে বাস্তবে সেই দামের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
ঈদের দ্বিতীয় দিন পৌর শহরের নিমতলা মোড় এলাকায় চামড়া কেনাবেচার বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ চামড়া বিক্রির জন্য ভিড় করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। স্থানীয় বাজারে গরুর চামড়া আকারভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়ার দাম নেমে এসেছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। অনেকেই দাম না পেয়ে ছাগলের চামড়া ফেলে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দরে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে একটি মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য ১৩০০ থেকে ১৮৫০ টাকা এবং বড় চামড়ার মূল্য ২ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই দাম পাচ্ছেন না কোরবানি-দাতারা। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করে।
চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও পরিচালনা ব্যয়ের একটি বড় অংশ মেটানো হয়। তবে কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক চাপে পড়েছে। চামড়া বিক্রি করতে আসা সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সরকার দাম নির্ধারণ করলেও তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে সেই দাম পাওয়া যায় না। একটি গরুর চামড়া বিক্রি করেছি, কিন্তু ছাগলের চামড়ার কোনো দাম না থাকায় ফেলে দিতে হয়েছে।” ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে যে পরিমাণ পশু কোরবানি হয়, ট্যানারিগুলোর ধারণক্ষমতা তার তুলনায় কম। ফলে তারা ন্যায্যমূল্যে চামড়া কিনতে আগ্রহী নয়। চামড়া খাতকে টিকিয়ে রাখতে রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
