স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পান বাজার-চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া (কোলারিঝিরি) অভ্যন্তরীণ সড়কের ৩০০০ মিটার থেকে ৬০০০ মিটার অংশের পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই উন্নয়নমূলক কাজের ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সুবিধা এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় আলীকদম উপজেলার এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্ধারিত অংশে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫৬২ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে চৈতি এন্টারপ্রাইজ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ ব্যবহারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল এবং স্থানীয় জনগণের যাতায়াতে নানা ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হতো। এলজিইডি’র উদ্যোগে সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখন এলাকাবাসী অনেক স্বস্তি প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বলেন, ‘পান বাজার-চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সড়কটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলজিইডি’র এই উন্নয়নমূলক কাজের ফলে এখন যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে।
কৃষকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারবেন। আমরা সরকারের এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই।’
আলীকদম (এলজিইডি’র) উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক উন্নয়ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।’ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা।
সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এলজিইডি বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আলীকদমের এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কৃষি খাতকে শক্তিশালী করে। কৃষকরা সহজে উৎপাদিত ফসল ও পণ্য বাজারজাত করতে পারেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ জনগণের চলাচল সহজ হয়। স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও দূরত্ব ও সময় কমে আসে। তাই সড়ক উন্নয়ন একটি অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।’ এলাকাবাসীর মতে, সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়ার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এলজিইডি’র এমন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পার্বত্য এলাকার টেকসই উন্নয়নে আরও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
