বসতঘরটি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ

বসতঘরটি এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ

ফন্ট সাইজ:

মো. রিয়াজ। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। দৈনিক সাড়ে ৬শ’ টাকা মজুরিতে কাজ করেন তিনি। আয় সামান্য হলেও স্ত্রী আর তিন সন্তানকে নিয়ে হাসি-খুশিতেই চলছিল তার সংসার। সবাই মিলে সুখে-শান্তিতে বাস করতেন একটি টিনশেড ঘরে। তবে মাত্র কয়েক মিনিটের এক ঘূর্ণিঝড় রিয়াজের সব খুশি ম্লান করে দিয়েছে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে তার বসতঘরটি। যে ঘরটিকে ঘিরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রিয়াজের নিরাপদে থাকার স্বপ্ন ছিল, সেই ঘর এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। গত ২৭শে মে সকালে আকস্মিক এক ঘূর্ণিঝড়ে রিয়াজের ঘরটি চোখের পলকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে এখনো পড়ে আছে ভাঙা টিন, ভাঙাচোরা আসবাবপত্র আর খালি পড়ে আছে বসতভিটা। ঘটনার ৫ দিন পার হলেও কোনো রকমে ঘরটি নতুন করে তুলতে বা মেরামত করতে পারছেন না।

তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্নদাপ্রসাদ এলাকার বাসিন্দা। রিয়াজ জানান, আমার তেমন কোনো সম্পদ নেই। যার জন্য প্রায় ৮ বছর আগে খালের পাড়ের কিছুটা খাস জমিতে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে বাস করছি। গত এক বছর আগে ধারদেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করে ঘরটি সংস্কার করি। তবে গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে আমার বসতঘরটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। যার ফলে ঘরের টিনসহ সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

ঘরে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকাও ঝড়ে হারিয়ে গেছে। খাদ্য হিসেবে মজুত রাখা চালও নষ্ট হয়ে গেছে। এক ঝড়ে আমার সবই শেষ হয়ে গেছে। এখন ঘরটিও নেই, আর নতুন করে ঘর নির্মাণের টাকাও নেই। কারণ আমি মাত্র সাড়ে ৬শ’ টাকা মজুরিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করি। উপার্জনের ওই টাকা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাই। তাই আপাতত একটা ছাপড়া তুলে স্ত্রীসহ ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে থাকার চিন্তা করছি।

কিন্তু সেটাও কীভাবে করবো তাও জানা নেই। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষজনের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই গড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ্‌। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ওই পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন