‘অদৃশ্য’ মোজতবা খামেনি, যোগাযোগে রহস্যময় জটিল নেটওয়ার্ক

‘অদৃশ্য’ মোজতবা খামেনি, যোগাযোগে রহস্যময় জটিল নেটওয়ার্ক

ফন্ট সাইজ:

হত্যার হুমকি এখনো বিদ্যমান থাকায় ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি এখনো একটি অজ্ঞাত ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। সেখানে তার যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত সীমিত বলে দাবি করা হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সিবিএস বলছে, মোজতবা খামেনির সঙ্গে এখন যোগাযোগ করার একমাত্র উপায় হলো ‘গোপন বার্তাবাহক নেটওয়ার্ক’। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিএস নিউজ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এই গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান শান্তি আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ইরানি আলোচকরা সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে প্রায়ই সমস্যায় পড়ছেন।

ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো নতুন কোনো প্রস্তাব অনেক সময় সরাসরি সুপ্রিম লিডারের কাছে পৌঁছায় না। ফলে প্রতিক্রিয়া পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মোজতবা খামেনির অবস্থান বা ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
তবে মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা সিবিএস’কে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টের আগে খামেনি বর্তমান খসড়া চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তার পোস্টে বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত রায় আসবে।

মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও নেতা নিহত হন। এরপর দেশটির সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর এখন অবধি প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা খামেনি।

যুদ্ধের সময় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানি সরকারের ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে চিহ্নিত করে। এ কারণে ইরানের অনেক নেতা এখন জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন এবং কেবল প্রয়োজন হলে সীমিতভাবে যোগাযোগ করছেন।

মার্কিন এক কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন এতটাই জটিল যে ‘তারা কীভাবে কথা বলবে তা বোঝার চেষ্টা করাই অনেকটা নাটকের মতো হয়ে গেছে’।

তবে ইরানে এখন সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মোজতবা খামেনির ক্ষেত্রে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তার অবস্থান জানেন না এবং সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই।
মোজতবাকে বার্তাগুলো কেবল কুরিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন