৫০ বছর পর ইরানের আকাশে ফের ‘রহস্যময় বস্তু’, ব্যাপক চাঞ্চল্য

৫০ বছর পর ইরানের আকাশে ফের ‘রহস্যময় বস্তু’, ব্যাপক চাঞ্চল্য

ফন্ট সাইজ:

ইরানের আকাশে উজ্জ্বল ও বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলা একটি রহস্যময় বস্তু ভেসে থাকার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওগুলো ২০ সেপ্টেম্বর ধারণ করা হয়েছে। এতে রাতের আকাশে নিচু দিয়ে চলাচল করতে থাকা একটি বস্তু দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বস্তুটি দেখা গেছে।

তবে বস্তুটির সঠিক অবস্থান, উচ্চতা, গতি কিংবা আকার সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ইরানি কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত বস্তুটি কী বা সেটিকে কোনো ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই ভিডিওগুলো সামনে এলো। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বস্তুটি আসলে কী হতে পারে, তা নিয়ে নানা তত্ত্ব সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী ধারণা করছেন, এটি সামরিক ড্রোন কিংবা একসঙ্গে উড়তে থাকা একাধিক ড্রোন হতে পারে।

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দূর থেকে দেখা কোনো ঘুড়ি কিংবা অন্য কোনো বস্তুর আলোকে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে কি না। সাইবার নিউজের প্রতিবেদনে এসব মতামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের আকাশে সর্বশেষ এমন রহস্যময় বস্তু দেখার ঘটনা ১৯৭৬ সালের একটি বহুল আলোচিত আকাশযান দেখার ঘটনার স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানি কর্তৃপক্ষ আকাশে একটি উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। ওই বস্তুটি অনুসন্ধানের জন্য ইরানি এফ-৪ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে ঘটনাটি ইউএফও গবেষকদের মধ্যে বহুল আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। ১৯৭৬ সালের ওই ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোপনীয়তা প্রত্যাহার করা নথিতেও বিভিন্ন প্রতিবেদন রয়েছে।

মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির আর্কাইভে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের একটি প্রতিবেদন, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একটি সারসংক্ষেপ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা অ্যাটাশের একটি প্রতিবেদন রয়েছে। এসব নথির অস্তিত্ব থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ১৯৭৬ সালের ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত ও তদন্ত করা হয়েছিল। তবে ১৯৭৬ সালে দেখা বস্তুটির সঙ্গে চলতি সপ্তাহে তেহরানে ধারণ করা আলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ নেই।