চুক্তি নিয়ে দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পক্ষ থেকে সর্বশেষ বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু এখনেই কোনো চুক্তি হচ্ছে না। খবর বিবিসির।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সোমবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি সম্ভব। রুবিও’র এমন মন্তব্যের জেরেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তির বিষয়ে ভিন্ন বার্তা দিলেন।
সোমবার বাঘেই বলেন, এটা বলা ঠিক হবে যে আলোচ্য বিষয়গুলোর বড় একটি অংশে আমরা উপসংহারে পৌঁছেছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে চুক্তি সই আসন্ন- এমন দাবি কেউ করতে পারে না।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশ দুইটির খসড়া সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে গতকাল ভিন্ন সুরে তিনি বলেন, মার্কিন আলোচকদের চুক্তির ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরবর্তীতে সোমবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম গত রাতে হয়তো কোনো খবর (চুক্তি নিয়ে) পাবো। সম্ভবত আজ।
তবে বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দেয়ার সতর্কবাণী উচ্চারণ করে রুবিও বলেন, ইরান থেকে খবর পেতে কিছুটা সময় লাগে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে সিবিএস নিউজ বলেছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার সহযোগীদের যোগাযোগ স্থাপন করা এখন অনেক কষ্টকর। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার গতি বিলম্বিত হচ্ছে।
এ ছাড়া মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা যুক্তরাস্ট্র-ইরানের এই সমঝোতা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বরং বেশ কিছু জটিল বিষয়কে পরবর্তীতে আলোচনার জন্য রেখে দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরিধি ও সময়, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করা হবে কি না এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সীমাবদ্ধতা চায়।
এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, এতে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।
সিনেটর টেড ক্রুজ এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ভয়াবহ ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া সিনেটর আর্মড সার্ভিসেস কমিটি’র চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেছন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হলে অপারেশন এপিক ফিউরির সব অর্জনই অর্থহীন হয়ে যাবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক হামলা চালায়। এরপর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়।
এ সময় ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে। ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি চূড়ান্ত, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।
তাই চুক্তি ঘিরে গত দুই-এক দিনে আশার আলো দেখা গেলেও এখনো অনেক শঙ্কাই রয়ে গেছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি এখনো জোরদার করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ছাড়া ইসরাইলও চায় না ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে ফের যুদ্ধ শুরুর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
