ইবোলায় মৃত্যু ২০৪, ঝুঁকিতে আরও ১০ দেশ, পাকিস্তান-ভারতে সতর্কতা

ইবোলায় মৃত্যু ২০৪, ঝুঁকিতে আরও ১০ দেশ, পাকিস্তান-ভারতে সতর্কতা

ফন্ট সাইজ:

কঙ্গো ও উগান্ডায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ২০৪ জনে পৌঁছেছে। রেড ক্রস জানিয়েছে, সেখানে তিনজন স্বেচ্ছাসেবক মারা গেছেন। উগান্ডা নতুন করে আরও তিনটি ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আফ্রিকার আরও দশটি দেশ ইবোলার ঝুঁকিতে। এই ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পাকিস্তান তার বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং প্রচেষ্টা জোরালো করেছে। ভারতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে বিবৃতিতে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে- দেশটির তিনটি প্রদেশে মোট ৮৬৭টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে ২০৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার জানায়, মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭৭ এবং সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৭৫০।

আফ্রিকার ১০ দেশ ঝুঁকিতে

আফ্রিকান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, কঙ্গো ও উগান্ডার বাইরে আরও কমপক্ষে ১০টি দেশ ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে। সংস্থার প্রধান জিন কাসিয়া এসব দেশের তালিকা দিয়েছেন। ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো হলো অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সাউথ সুদান, তানজানিয়া এবং জাম্বিয়া। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে উচ্চ জনচলাচল ও নিরাপত্তাহীনতা রোগ ছড়ানোর অন্যতম কারণ। উগান্ডায় নতুন শনাক্ত হওয়া তিনজন রোগীর মধ্যে একজন উগান্ডার গাড়িচালক, একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং একজন কঙ্গোর নারী। সবাই জীবিত আছেন।

উল্লেখ্য, ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায় এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলাঙ্গতার কারণ হতে পারে। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইটুরি প্রদেশে শুরু হয়েছে। এটি উগান্ডার সীমান্তবর্তী এলাকা। পরে এটি দক্ষিণ কিভু অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। রেড ক্রস জানিয়েছে, ইটুরিতে তিনজন কঙ্গোবাসী স্বেচ্ছাসেবক ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসর (আইএফআরসি) বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ২৭শে মার্চ একটি মানবিক মিশনে মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন, যা ইবোলা প্রতিরোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল না। সংস্থাটি বলেছে, ঘটনার সময় কমিউনিটি ইবোলা প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সচেতন ছিল না। তারা এখন এই রোগের প্রথম দিকের পরিচিত শিকারদের মধ্যে রয়েছেন।

উগান্ডা বৃহস্পতিবার প্রথম দুইটি শনাক্তের পর গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর সঙ্গে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট স্থগিত করে। এর মধ্যে একজন রোগী মারা গেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সংক্রমিত গাড়িচালক সেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যেখানে আক্রান্ত কঙ্গোর রোগী ভ্রমণ করেছেন। আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মী ওই রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে সংক্রমিত হন। তৃতীয় রোগী একজন কঙ্গোর নারী। উগান্ডা সফরের পর দেশে ফিরে তার ইবোলা পজিটিভ ধরা পড়ে।

এই অঞ্চলে তিন দশকের বেশি সময় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত চলছে। গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর গ্রামীণ এলাকায় সরকারি সেবা প্রায় অনুপস্থিত। দক্ষিণ কিভু অঞ্চল বর্তমানে রুয়ান্ডা সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এম ২৩-এর নিয়ন্ত্রণে। তাদের আগে কোনো বড় মহামারি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নেই। কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামুয়েল রজার কাম্বা আদ্দিস আবাবায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই ভাইরাস সবার সমস্যা। তিনি আরও বলেন, ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঙ্গোর সরকারের ভূখণ্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কঙ্গোতে ঝুঁকির মাত্রা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যদিও বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো কম।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রাদুর্ভাবটি বুন্দিবাগিও নামের তুলনামূলক বিরল ইবোলা স্ট্রেইনের কারণে হচ্ছে। এর জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন