তুরস্কে বিরোধী দলের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, নেতৃত্ব বাতিলের পর উত্তেজনা

তুরস্কে বিরোধী দলের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, নেতৃত্ব বাতিলের পর উত্তেজনা

ফন্ট সাইজ:

তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) সদর দপ্তরে রোববার জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে দাঙ্গা পুলিশ। কয়েক দিন আগে আদালত দলটির নেতৃত্ব বাতিল ঘোষণা করার পর নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ওই দলটির কার্যালয় অন্য নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সেখানে অভিযান শুরু করে। এজন্য রাজধানী আংকারায় সিএইচপি কার্যালয়ের বাইরে টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় নেতাকর্মীরা অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে কার্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখেন। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান তার ক্ষমতাকে আরও পোক্ত করছেন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভেতরে থাকা লোকজন চিৎকার করছেন এবং প্রবেশপথের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন। অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের ওপর পানির পাইপ দিয়ে পানি ছিটানো হচ্ছিল।

দলটির নেতা ওজগুর ওজেল বৃহস্পতিবার আপিল আদালতের সেই রায় মানতে অস্বীকৃতি জানান, যেখানে তার নির্বাচিত হওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। আদালত রায়ে বলা হয়, ওজগুর ওজেলের জায়গায় দায়িত্ব নেবেন ৭৭ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিক কেমেল কিলিকদারোগলু। তিনি ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগানের কাছে পরাজিত হন।

তুর্কি গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিলিচদারোলুর প্রতিনিধিরা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন, যাতে নতুন নেতৃত্বের কাছে সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা যায়। তাদের দাবি, এতদিন তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এরপর শহরের গভর্নর পুলিশকে আদালতের রায় কার্যকর করার নির্দেশ দেন বলে গভর্নরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়। এক্সে শেয়ার করা ভিডিও বার্তায় ওজেল বলেন, আমরা হামলার মুখে পড়েছি। এ সময় ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে নিরাপত্তা বাহিনী। একই সঙ্গে তার সমর্থক ও কিলিচদারোলুর সমর্থকদের মধ্যেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

পরে ভবন থেকে বেরিয়ে বাইরে জড়ো হওয়া জনতার উদ্দেশে ওজেল বলেন, তারা আমাদের উৎখাত করে বের করে দিতে চেয়েছিল- কিন্তু তারা কোথায়? তিনি আরও বলেন, দলটি এখন থেকে রাজপথ ও জনসমাবেশে থাকবে এবং ক্ষমতার দিকে অগ্রসর হবে। এরপর তিনি শত শত সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে আংকারার রাস্তায় মিছিল করতে করতে তুর্কি পার্লামেন্টের দিকে রওনা দেন। আপিল আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ২০২৫ সালে নিম্ন আদালতের দেয়া একটি সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। ওই রায়ে ওজেলকে দলীয় নেতা নির্বাচনের সময় ভোট কেনাবেচার অভিযোগ খারিজ করা হয়। এর ফলে দলটির পুরো নির্বাহী কমিটিও পরিবর্তিত হবে এবং তাদের আগের সিদ্ধান্তগুলো আর বৈধ হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ শনিবার সতর্ক করে বলেছে, এরদোগান সরকার সিএইচপির বিরুদ্ধে অপব্যবহারমূলক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে তুরস্কের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুরস্ক শাসন করছেন এরদোগান। ওজেলের অভিযোগ, এরদোগানের একে পার্টি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করার কৌশল অনুসরণ করছে।

৭২ বছর বয়সী এরদোগান আবার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন কেবল তখনই, যদি তিনি ২০২৮ সালের আগে আগাম নির্বাচন ডাকেন অথবা সংবিধান পরিবর্তন করেন। তুরস্কের আইন মন্ত্রী একিন গুরলেক এ সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন, আপিল আদালতের এই রায় গণতন্ত্রের প্রতি নাগরিকদের আস্থা আরও জোরদার করেছে। এর আগে ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গুরলেক বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তের নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে ছিলেন ইস্তাম্বুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোগলু। তাকে এরদোগানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। দুর্নীতির অভিযোগে তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন