ভারতের জয়পুরে গৃহনির্যাতনের এক মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শিশু হারিয়েছে তাদের মাকে। ভুক্তভোগী অনু মীনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পিতামাতার নিয়মিত ঝগড়া ও সহিংসতার সাক্ষী তাদের দুই সন্তান। ২০১৫ সালে অনু মীনার বিয়ে হয় গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী গৌতম মীনার সঙ্গে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই গৌতম তাকে নির্যাতন শুরু করেন। মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই তিনি অনুকে গালিগালাজ ও মারধর করতেন। তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে মাহির জানিয়েছে, তার পিতা প্রায়ই মাকে মারধর করতেন। এক ঘটনার কথা স্মরণ করে সে বলে, একদিন তার বাবা বাড়ি ফিরে অনুর ওপর হামলা চালান। মাহির আরও জানায়, রক্তচাপ কমে গেলে মা তাকে লবণ মেশানো পানি দিতে বলতেন। একবার সে মাকে সাহায্য করতে গেলে তার বাবা পুরো ঘটনার জন্য উল্টো মাকেই দোষারোপ করেন।
মাহিরের ভাষায়, বাবা প্রায়ই মাকে মারতেন ও নির্যাতন করতেন। একদিন তিনি বাড়িতে এসে টিভিতে গান চালান, তারপর টিভি ভেঙে ফেলেন এবং মাকে মারধর করেন। আমি পানি আনতে গিয়েছিলাম, কিন্তু বাবা মাকেই দোষ দেন।
তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে সামাইরাও বাবা-মায়ের ঘনঘন ঝগড়ার কথা বলেছে। পারিবারিক অনুষ্ঠান এমনকি ভ্রমণের সময়ও তাদের মধ্যে প্রকাশ্যে ঝগড়া হতো বলে সে জানিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল দীর্ঘদিনের নির্যাতন সহ্য করার পর অনু আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। চরম এই পদক্ষেপ নেয়ার আগে তিনি স্বামীকে ভিডিও কল করেন এবং কল চলাকালীনই আত্মহত্যা করেন। প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তার পরিবারকে খবর দেন। সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অনুর ৫৬ বছর বয়সী মা মায়া জানান, মেয়ের কাছ থেকে তিনি প্রায়ই স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ শুনতেন। তবে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ পরিণতি নেবে, তা কখনো ভাবেননি। তিনি বলেন, সেদিন অনুর একটি ফোনকল তিনি ধরতে পারেননি। এখন তার মনে হয়, হয়তো ফোনটি ধরতে পারলে এই ট্র্যাজেডি ঠেকানো যেত। ঘটনার কয়েকদিন পর মাহির মায়ের ফোন থেকে কয়েকটি ভিডিও খুঁজে পায়। সেখানে একটি ঝগড়ার ভিডিওও ছিল। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির ভেতরে বসে অনু ভিডিও ধারণ করছেন এবং সেখানে গৌতম তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে তা শোনা যায়। ভিডিওতে অনু ও তার পরিবারের সদস্যদেরও গালাগাল করতে দেখা যায় গৌতমকে।
অনুর ভাই নীরজ মীনা বলেন, পরিবার বারবার তাকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছিল। কিন্তু স্বামীর কথা ভেবে অনু সংসার ছাড়তে চাননি। তিনি আরও বলেন, সহিংসতার পর গৌতম প্রায়ই ক্ষমা চাইতেন। এতে পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেছিলেন যে পরিস্থিতির হয়তো উন্নতি হবে। নীরজের অভিযোগ, ঘটনার পরও গৌতমের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং তিনি বলেছেন, কয়েকদিন জেলে গেলে সমস্যা নেই। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
