দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তাদের স্মরণেই সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তৈরি করা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্বর। তারই ধারাবাহিকতায় মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরেও হয় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্বর। উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরেই অবস্থিত এই চত্বর। এক সময় যা ছিল এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক টুকরো স্বস্তি আর সৌন্দর্যের প্রতীক। এখানে পানির ফোয়ারা আর দৃষ্টিনন্দন আলোর ঝলকানি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসতো হাজারো মানুষ।
কিন্তু যে চত্বরটি এক সময় নন্দন কাননের রূপ নিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি এখন পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে। ২০২০ সালের ১৫ই আগস্ট মাগুরার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটির শুভ উদ্বোধন করেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমানের উদ্যোগে সরকারের প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চত্বরটি নির্মাণ করা হয়। চত্বরটি ছিল মহম্মদপুরবাসীর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসতেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
পরিবার-পরিজন নিয়ে বিকালে একটু প্রশান্তির খোঁজে অনেকে এখানে জড়ো হতেন। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট চত্বরের পশ্চিম পাশে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের কিছু অংশে ভাঙচুর করা হয়। পরে সেটি কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। ম্যুরালটির ভবিষ্যৎ কী? তা নির্ভর করছে সরকার ও প্রশাসেনর ঊর্ধ্বতন সিদ্ধান্তের ওপর। তবে স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে সেখানে বাংলাদেশের মানচিত্রভিত্তিক নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই চত্বরের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে।
এখন এখানে আর সেই দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা চলে না। দীর্ঘদিন সেটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সচল নেই রঙিন আলোগুলোও। মালি বা যথাযথ তদারকির অভাবে চত্বরের বাগানটি এখন আগাছায় পূর্ণ। ফুলের বদলে সেখানে জন্ম নিয়েছে ঘাস, ছন ও আগাছা। এখন প্রায়ই ঘাস খেতে চত্বরের ভেতর গরুর দলকে বিচরণ করতে দেখা যায়। অযত্নে পানির ফোয়ারার অনেক জায়গায় শ্যাওলা জমতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেটা যত্ন বা পরিষ্কার করার কোনো পদক্ষেপই চোখে পড়ছে না। স্থানীয়রা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আগে এখানে এলে মন ভালো হয়ে যেত। এখন দেখি চত্বরের ভেতর গরু চরে আবার মসজিদের অভ্যন্তরেও গরুর অবাধ বিচরণ দেখা যাচ্ছে। পুরো চত্বর মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করে। আমরা চাই, আগের সেই সৌন্দর্য আবার ফিরে আসুক।
মহম্মদপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, এটি দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবারো দৃষ্টিনন্দন করে জায়গাটি গড়ে তোলা। প্রশাসনের উদ্যোগ যেন শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ নেয়- এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. শাহনুর জামান মানবজমিনকে কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। চত্বরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা বজায় রাখার জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
