তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটর জেলার সুলুর এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি এক্সে লিখেছেন, কোয়েম্বাটরে ১০ বছরের শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শোকাবহ। এ ধরনের অমানবিক ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ আমাদের সমাজে কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ থাকা ১০ বছরের ওই কন্যা শিশুর মৃতদেহ শুক্রবার কন্নামপালায়াম হ্রদের কাছে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলো কার্তিক ও মোহন রাজ। তাদের বিরুদ্ধে শিশুটিকে অপহরণ করে পরে হত্যার অভিযোগ আছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি বাড়ির কাছেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বের হলে তাকে অপহরণ করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহত শিশুর পরিবার ও আত্মীয়রা সুবুর থানার সামনে বিক্ষোভ করে বিচার দাবি করেন। শিশুটির মৃতদেহ মর্গ থেকে না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার, যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নিশ্চয়তা পায় তারা। পরিবারের এক সদস্য বলেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য বা আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত মৃতদেহ নেব না। আমরা পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিলাম। এখন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
নিহতের এক আত্মীয় সেন্টিল কুমার জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, প্রথমে বলা হয়েছিল শিশুটি নিখোঁজ। পরে জানা যায় তার মৃতদেহ হ্রদের তীরে পাওয়া গেছে। এরপর শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষ বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তামিলনাড়ুর ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সন্দীপ রাই রাঠোর ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত তদারক করছিলেন।
ঘটনাটি রাজনৈতিক রূপ নেয়, যেখানে ডিএমকে নতুন টিভিকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে। ডিএমকে নেতা ও বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার ১২ দিনের মধ্যে ৩০টিরও বেশি বড় অপরাধ ঘটেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। তিনি বলেন, শিশু অপহরণ ও হত্যার মতো ঘটনাসহ একাধিক সহিংস অপরাধের খবর রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ডিএমকে মুখপাত্র সরাভানন অন্নাদুরাই অভিযোগ করেন, বিজয় সরকার নারীর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও বাস্তবে অপরাধ বাড়ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা নারায়ণন তিরুপতি ডিএমকে সরকারের পূর্ববর্তী শাসনকালকে দায়ী করে বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগে থেকেই ভেঙে পড়েছিল এবং সেই দুর্বলতার ফল এখন দেখা যাচ্ছে।
