চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একক আধিপত্যে পূর্ণ প্যানেলে জয় এসেছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা এবং জামায়াতপন্থিদের নির্বাচন বর্জনের মধ্যে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদের অধিকাংশেই বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য ফোরামের প্রার্থীরা জয়ী হন। কয়েকটি পদে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তারিক আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. মঈনুদ্দীন। এ ছাড়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, পাঠাগার সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদেও বিএনপিপন্থি প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় ছিল উত্তেজনা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা মিছিল করেন। অন্যদিকে, জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে বিএনপিপন্থি প্রার্থীদের জন্য মাঠ প্রায় ফাঁকাই ছিল বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনের দিন আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা ‘ভুয়া নির্বাচন’, ‘অটো নির্বাচন’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তারা।
এ সময় আদালত ভবনের শাপলা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কয়েকজন আইনজীবী প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাদের ‘ভোট ডাকাত, ভোট চোর’ স্লোগানধর্মী গান গাইতে দেখা যায়। এদিকে, ভোটগ্রহণ চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি আইনজীবী অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
