বরগুনার ১২ জেলে অপহরণ

জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় জলদস্যুরা

ফন্ট সাইজ:

বরগুনার পাথরঘাটায় সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর কটকা খাল এলাকা থেকে গত ১৯শে মে রাতে মাছ ধরার ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। অপহৃত জেলেরা সবাই পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মুক্তিপণ হিসেবে সবার জন্য দেড় লাখ টাকা করে দাবি করেছে জলদস্যুরা।

জলদস্যুদের থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন জেলে পাথরঘাটার বাড়িতে ফিরে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুহিতা গ্রামের ট্রলারমালিক কালাম মিয়ার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনের কটকা স্টেশনের কেওড়াতলা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে বাধা জালের কয়েকটি ট্রলার অবস্থান করছিলো। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাহিনী ওরফে কার্টুন বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা সেখানে হানা দেয়। ২৫-৩০ জন জলদস্যুর সবার হাতেই বিদেশি অস্ত্র ছিল। কালাম মিয়া বলেন, প্রথমে ওরা তার ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ট্রলারের কিছু জেলে খালে পড়ে পলিয়ে আসেন। তবে অন্য ৪ জেলেসহ ট্রলারটি আটক করে। পরে দু’টি ট্রলারে ভাগ হয়ে জলদস্যুরা চারটি ট্রলার জব্দ করে। প্রত্যেক ট্রলার থেকে রসদ সামগ্রীসহ ১২ জন ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন। বুধবার রাতে একইভাবে ৮টি ট্রলার থেকে ২৭ জন ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

জানা যায়, তাদের মোবাইল ফোন নম্বরে মুক্তিপণ চেয়ে কল এসেছে। জেলেপিছু দেড় লাখ টাকা দাবি করছে জলদস্যুরা। এসব জেলে পরিবারের কোনো সদস্যই নাম প্রকাশে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, যদি দস্যুরা জেনে যায়, কোনো জেলের স্বজনেরা এসব তথ্য দিয়েছেন, তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হবে। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছগির আলম জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অপহৃত জেলেদের বিষয়ে বুধবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দু’-একদিনের মধ্যে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা দিয়েছেন।

পাথরঘাটা থানার ওসি এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অপহরণের সংবাদ পেয়ে জেলেদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া সেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলার আওতাধীন। তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন। ইতিমধ্যে দু’টি দল অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা করছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানিয়েছেন, এসব জেলেদের উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনে কাজ করছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন