মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় একটি পাকা সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকার প্রাক্কলন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রায় দুই লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এ ঘটনায় পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শিল্পী আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ৫ই মে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর নজরুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক তৌহিদ ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় পঞ্চসারের নয়াগাঁও রায়পাড়া চামনী বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে সরকার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ’ ফুট সড়ক ও ওয়াল নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় ধরা হয় মাত্র ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২০৭ টাকা। কাজ করার জন্য তাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার একটি চেক দেয়া হয়। চেক দেয়ার সময় অফিস খরচের কথা বলে নজরুল ৩৭ হাজার টাকা নগদ কেটে রাখা হয়। ওই প্রকল্পটির সভাপতি করা হয় সংরক্ষিত নারী সদস্য শিল্পী আক্তারকে। অভিযোগে বলা হয়, কাজ শুরুর আগে ইউপি সদস্য প্রাক্কলন চাইলেও তাকে কাজের কোনো প্রাক্কলন বা নকশা দেয়া হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর নজরুল ইসলাম ইউপি সদস্যকে প্রাক্কলন ছাড়া কাজ শুরু করতে বলেন। গত ৩০শে এপ্রিল স্থানীয় ব্যক্তিদের চাহিদা মোতাবেক কাজ শুরু করেন। গত ৪ঠা মে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মচারী তৌহিদ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সড়কের দেওয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলেন। কারণ জানতে চাইলে তাকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এরপর থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে। ওই অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৬ই মে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলনের কপি সংগ্রহ করেন শিল্পী আক্তার। পরে তিনি দেখতে পান, মূলত প্রকল্পটি ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার।
শুক্রবার সকালে পঞ্চসার ইউনিয়নের নির্মাণাধীন ওই সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে বালু বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সড়কটির কংক্রিট ঢালাইয়ের জন্য খালের অংশে কাঠের বেড়া দেয়া হয়েছে। স্থানীয় নুরুল আমিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, পৌনে ৬ লাখ টাকার কাজ। অথচ প্রথমে আমরা শুনেছি আড়াই লাখ, এরপর জানলাম সাড়ে তিন লাখ। কাজ বন্ধ হওয়ার পরে জানলাম পৌনে ৬ লাখ টাকার কাজ। ইউপি সদস্য শিল্পী আক্তার বলেন, মেম্বার হয়েছি ৫ বছর হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কাবিখা, কাবিটা’র ৩টি সড়ক করেছি। সড়ক নির্মাণের আগে একটি কাজেরও প্রাক্কলন অফিস থেকে দেয়া হতো না। তারা মুখে যা বলতো তাই বিশ্বাস করে কাজ করতে হতো। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তৌহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ইউপি সদস্যকে প্রাক্কলন নেয়ার জন্য কয়েকবার বলার পরও প্রাক্কলন নেননি দাবি করেন আরেক অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম।
সেইসঙ্গে টাকা নেয়া এবং প্রাক্কলন ছাড়া কাজ করার অনুমতি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) স্বপন মাতুব্বর অফিস খরচের জন্য টাকা নেয়াসহ তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সবসময় সরজমিন পরিদর্শনে যেতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, টাকা লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। আগামী রোববার সবাইকে উপজেলায় থাকতে বলা হয়েছে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
