আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের দুই বিশাল গরু ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরু দু’টি এক নজর দেখতে ভিড় করছেন মালিকদের বাড়িতে। স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতির এই দুই গরুকে ঘিরে কালাই উপজেলায় ঈদের আগাম আমেজ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ গরু দুটি দেখতে ভিড় করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। সবমিলিয়ে ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গরু দু’টির একটি উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম এলাকার রেজাউল করিম রাজার এবং অপরটি মাত্রাই ইউনিয়নের ফজলে রাব্বির। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের মতো আদর-যত্নে বড় করা এই দুই গরুকে ঘিরে এখন পুরো এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ‘রাজাবাবু’কে নিয়ে মালিক রেজাউল করিম রাজার রয়েছে আবেগঘন স্মৃতি। তিনি বলেন, রাজাবাবু শুধু একটা গরু না, সে ছিল আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সারারাত ডাকাডাকি করে পুরো বাড়ি পাহারা দিতো। তার ডাকার শব্দ শুনে আশপাশে চোর-ডাকাতও ভয় পেতো। এতদিন নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছি, এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই বুকটা ভেঙে যায়। তবে সংসারের প্রয়োজনে এবারের ঈদে প্রায় ৭ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় যুবক রাকিব হোসেন বলেন, রাজাবাবু শুধু বড় গরুই না, পুরো এলাকায় সে একটা পরিচিত নাম হয়ে গেছে। রাত হলেই তার ডাকার শব্দে সবাই বুঝতে পারতো আশপাশে কেউ ঘোরাঘুরি করছে। অনেকেই মজা করে বলতো, এই গরুই নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার। এখন তাকে বিক্রি করা হবে শুনে খারাপ লাগছে।
অন্যদিকে ‘সাদাবাবু’ নামের সাদা রঙের বিশাল গরুটিও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। মালিক ফজলে রাব্বি জানান, সাদাবাবু খুব শান্ত স্বভাবের। বাড়ির ছোট ছোট শিশুরা তার সঙ্গে খেলাধুলা করলেও সে কখনো কাউকে আঘাত করেনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আলাদা একটা মায়া তৈরি হয়ে গেছে। এখন বিক্রির কথা উঠতেই পরিবারের সবাই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সাদাবাবুকে দেখলেই মনে হয় কতো যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। গরুটি অনেক শান্ত স্বভাবের। এলাকার শিশুরাও ভয় ছাড়াই তার কাছে যায়। প্রতিদিন মানুষ শুধু সাদাবাবুকে এক নজর দেখতে আসছে। এত সুন্দর আর বিশাল সাদা গরু এলাকায় খুব কম দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের উপজেলা থেকেও মানুষ আসছে দেখতে। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কালাই উপজেলায় রাজাবাবু ও সাদাবাবুর মতো বড় ও সুস্থ গরু স্থানীয় খামারিদের পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার ফল। এটি প্রমাণ করে, আধুনিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন করলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হবেন।
