শুভেন্দু সরকারের সিদ্ধান্তে বিপর্যয়ে হাজার হাজার খামারি

শুভেন্দু সরকারের সিদ্ধান্তে বিপর্যয়ে হাজার হাজার খামারি

ফন্ট সাইজ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে গরু কোরবানির বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে কট্টর হিন্দু সমর্থক গোষ্ঠীর বড় একটি অংশ চাচ্ছে, যেকোনো উপায়ে যেন গরু কোরবানি দেয়া হয়। বুধবার (২০ মে) দ্য কুইন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দ্য কুইন্ট জানিয়েছে, গরুর ভিডিওতে হঠাৎ করেই সয়লাব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তেমনি ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম যুবকরা হিন্দু গরু বিক্রেতাদের পথরোধ করছেন এবং তাদের বাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তারা বলছেন, আপনারা কেন গরু বিক্রি করতে চাচ্ছেন। তাকে বাড়ি নিয়ে যান এবং সেবা করুন। আপনারা গরু বিক্রি করলে টাকা আয় করবেন আর আমরা জেলে যাবো।

আরেক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম যুবকরা গবাদিপশু বহনকারী ট্রাক থামিয়ে চালকদের জেরা করছেন। তাদের প্রশ্ন করছেন, আপনারা এভাবে গরু বেঁধে অমানবিকভাবে নিয়ে যাচ্ছেন কেন। এর পরিবর্তে আপনারা তাকে শ্রদ্ধার সাথে হেঁটে নিয়ে যান।

একই সময়ে বেশ কয়েকজন মুসলিম ইনফ্লুয়েন্সার এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু না কেনার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ছাড়া কিছু ভিডিওতে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এসব ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু হিন্দু গরু খামারি হাটে কোনো বেচাকেনা করতে না পেরে শুকনো মুখে উদ্বেগ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনার জন্য অনেকেই এবারের রাজ্যটির নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে প্রকাশ্যে দোষারোপ করছেন।
বর্তমানে সেখানে এই সংকট অনলাইনে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ‘গরু সংকট’ নিয়ে একটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন একদিনের মধ্যেই ইউটিউবে ১০ লাখ এবং ফেসবুকে ৩০ লাখ ভিউ ছাড়িয়ে গেছে।
এমন সংকট হওয়ার নেপথ্যে
গত ১৩ মে নবগঠিত বিজেপি সরকার ১৯৫০ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সেই গবাদিপশু জবাই করা যাবে সরকারি সনদে যে পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি বা এটি স্থায়ীভাবে কাজের জন্য অনুপযুক্ত।
শুধুমাত্র সরকার-অনুমোদিত কসাইখানাতেই পশু জবাই করা যাবে। প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১,০০০ রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এমন বিজ্ঞপ্তি জারির পর রাজ্যটির হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ও পুলিশ রাস্তায় গরু পরিবহনকারীদের থামিয়ে হয়রানি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ উঠে।
এরপর মুসলিম সংগঠনগুলো ঈদে গরু কেনা বয়কটের প্রচারণা শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই পশ্চিম বাংলার হিন্দু গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংগঠনগুলো এখন গরুর পরিবর্তে ছাগল বা মহিষ কোরবানি দেয়ার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানাচ্ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে হাজার হাজার গরু খামারি।

ট্যাগসমূহ:

Zakiul Islam

২ মাস আগে

হনুমানের লেজের আগুনে নাকি লঙ্কা পুড়ে ছারখার হয়েছিলো আর মুসলিম বিদ্ধেষী শুভেন্দু দের লেজের আগুনে সারা ভারত পুড়ে ছারখার হবে । একটু অপেক্ষা কর মুখ্য---

Shah alam

২ মাস আগে

BJP হচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত ভন্ড সরকার।গরুর মাংশ উৎপাদন ও রফতানীতে ভারত পৃথিবীর ২য় স্থান অধিকার করেছে। অন্যপক্ষে দেশের ভিতর গরু জবাই নিয়ে ধর্মীয় উস্কানী চালুরেখে মুসলিমদের হত্যা/অত্যাচার করে চলেছে।

Sahabuddin Ali

২ মাস আগে

আল্লাহ যা যা করেন ভালোর জন্যই করেন

MD JAMAL

২ মাস আগে

মুসলমান ভাই দেরকে অনেক ধন্যবাদ, সঠিক সময় উপযোক্ত সিদ্ধান্দ নিতে পারায়, এবার যে দাদারা গরু বিক্রি করতে পারলো না ওদেরকে সুবেন্দু দাদা টাকা ক্ষতি পূরণ দিবে আর মুসলিম ফ্যামিলি কে ১ টা করে ছাগল দিবেI না পারলে আমাদের কাছে আসো বুঝিয়ে দেবো ঘোল ঢেলে I ঈদ শুভেছা অগ্রিম রইলো

Sahabuddin Ali

২ মাস আগে

আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন

Abdul Matin Sikder

২ মাস আগে

হা, হা, হা,.. পশ্চিমবংগের মুসলিমরা একটি দুর্দান্ত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিপদে পরলেই মানুষের বুদ্ধি বাড়ে। ওরা যদি গরু না কোরবানী দিবার এই সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতো, তাহলে বিশ্বের মানুষ আমরা জানতেই পারতাম না যে "গরুমাতার পুজারী ভারতীয় হিন্দুরাই অর্থ কামাইয়ের লোভে মুসলিমদের কোরবানীর জন্য গরুর খামার করে"। পশ্চিমবংগের মুসলিমদের অতুলনীয় এই সিদ্ধান্তে হিন্দুদের একই অংগে কতই যে রূপ তা এখন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যেমন প্রকাশ পেয়ে গেছে, তেমনি গরু বিক্রি করতে না পেরে হিন্দুরা এবার ব্যাপক ক্ষতির মুখেও পরতে যাচ্ছে, মারহাবা ডাবল ধামাকা।

আ্হসান হাবীব

২ মাস আগে

মুদলিমদের এখন উচিত হবে আল্লাহর উপর সবকিছু বিচারের দায় ছেড়ে দিয়ে গরু কোরবানী থেকে বিরত থাকা।

মন্তব্য করুন